র‌্যাব এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ২০ জুলাই রাজনৈতিক মতবিরোধের জের ধরে জেলা সদরের গড়পাড়া ঘোষের বাজার এলাকায় বিপ্লব ও তাঁর সহযোগীরা যুবদল নেতা কাবুল খানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় পরের দিন জেলা যুবদলের তৎকালীণ সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০০৯ সালে আদালত আসামি বিপ্লব হোসেন ও মনির চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং নিপ্পাই হোসেন, মোশারফ হোসেন, সুনীল সাহা, উজ্জ্বল হোসেন ও শহীদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি ছয় আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এরপর পুলিশ মনির, উজ্জ্বল ও মোশারফকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে আপিল করলে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ সাত আসামিকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। পরে উজ্জ্বল উচ্চ আদালতে আপিল করলে বিচারক মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেন। প্রায় চার বছর আগে গ্রেপ্তার আসামি মোশারফ কারাগারে মারা যান। এ ছাড়া মনির বর্তমানে জেলহাজতে।

র‌্যাব-৪-এর সিপিসি-৩ মানিকগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার লে. কমান্ডার মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকেই আসামি বিপ্লব পলাতক। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবা ও মায়ের নাম ঠিক রেখে নিজের নাম বিপ্লবের পরিবর্তে শহিদুল ইসলাম ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া তিনি ক্রমাগত পেশা পরিবর্তন করে আসছিলেন। প্রথমদিকে তিনি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দোকানের কর্মচারী, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ও পরবর্তী সময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের আগারগাঁও অফিসে প্রতারণামূলক দালালির কাজ করতেন। আজ শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার আসামিকে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রউফ সরকার বলেন, আদালতের রায়ের নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন