ময়লার ভাগাড়ে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা এনসিপি প্রার্থীর

ময়লার ভাগাড়ে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ। আজ রোববার সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল কলেজ সড়কের পাশের ময়লার ভাগাড়েছবি: প্রথম আলো

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ। আজ রোববার সকালে শহরের কলেজ রোড এলাকায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতা–কর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন।

ইশতেহার ঘোষণার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মৌলভীবাজার–৪ আসনের প্রার্থী প্রীতম দাশ বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলবাসীর সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের প্রতীক এই ময়লার ভাগাড়। তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি মসজিদ ও আশপাশের এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ ও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। জনগণের এই কষ্টকে সামনে রেখেই আমি এখানে দাঁড়িয়ে আমার ইশতেহার ঘোষণা করছি।’ নির্বাচিত হলে দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

প্রীতম দাশ আরও বলেন, চা–শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও আদিবাসীদের ভূমির অধিকারের আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তাঁকে ১৩১ দিন কারাবরণ করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চা–শ্রমিক, আদিবাসী, কৃষক, যুবক ও নারীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।

নির্বাচনী ইশতেহারে প্রীতম দাশ বলেন, তাঁর রাজনীতি মানুষের জন্য। শ্রমিক, কৃষক, যুবক, নারী, আদিবাসীসহ সমাজের সব শ্রেণি–পেশার মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। ইশতেহারে চা–শ্রমিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের মাধ্যমে আদিবাসী ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া হাওর দখলমুক্ত করে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, নির্দিষ্ট ফি দিয়ে সবার জন্য মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থাকা ময়লার ভাগাড় অপসারণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপনের ঘোষণা দেন এনসিপির এই প্রার্থী। ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও ইশতেহারে গুরুত্ব পায়।

ইশতেহারে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা, চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি, পৌরসভা সম্প্রসারণ, শমসেরনগরকে পূর্ণাঙ্গ পৌরসভায় রূপান্তর এবং যানজট নিরসনে আধুনিক বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্টেশন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া কৃষকদের জন্য সার, সেচ ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা, আধুনিক বহুমুখী কৃষি ব্যবস্থা চালু, মিথ্যা মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ, প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কমিউনিটি সেফটি নেটওয়ার্ক গঠনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তরুণদের জন্য ওয়ান–স্টপ ইয়ুথ সেন্টার স্থাপন, ডিজিটাল হাব তৈরির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং হোম স্টে, ইকো ও কালচারাল ট্যুরিজম উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রীতম দাশ। তিনি বলেন, ইমাম, পুরোহিতসহ সব ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয় বেতন–ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং মসজিদ–মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ের বেদখলকৃত জমি পুনরুদ্ধার করা হবে।