গোমতী নদীতে মাটি কাটার বৈধতা চেয়ে বিক্ষোভ
গোমতী নদীর চরে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধের পর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে কিছু মানুষ। বৈধ উপায়ে মাটি কাটা ও ব্যবসা করার সুযোগ তৈরির দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালন করেছেন। এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের লোকজন বলছেন, বিক্ষোভের নামে মাটি কাটার শ্রমিক ও মাটি পরিবহন শ্রমিকরা অবৈধ কাজের বৈধতা চাচ্ছেন।
আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান ধর্মঘট করেন শ্রমিকেরা। পরে তাঁরা ইউএনওকে স্মারকলিপি দেন। ‘ট্রাক্টর পরিবহন শ্রমিকবৃন্দ, দেবীদ্বার, কুমিল্লা’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভের সময় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করা হয়। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে পবিত্র রমজানে শিশু ও নারীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েন।
মহাসড়ক অবরোধের এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা সদরের নিউমার্কেটে সংক্ষিপ্ত সভা করেন। সেখানে মাটি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের পক্ষে আবদুর খালেক নামের একজন বলেন, ‘গোমতী নদীর মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা ২০ হাজার শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি ও জোগালি শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়েছি। আমাদের দুই শতাধিক ট্রাক্টর, ড্রেজার, ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলার ২৩টি ইটভাটা প্রায় বন্ধের পথে। আবাসন নির্মাণ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের উদ্যোগে ভবন নির্মাণ, রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ নানা উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় আমরা বৈধ উপায়ে মাটি কাটা ও ব্যবসা করার সুযোগ চাই। যদি আমাদের দাবি না মেনে নেওয়া হয়, তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।’
এ বিষয়ে রোববার বিকেলে দেবীদ্বারের ইউএনও রাকিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তাঁদের কাছ থেকে একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। তবে আমার কাছে বিষয়টি অনেকটাই অবৈধ কাজের বৈধ দাবির মতো মনে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নদী ও চরের মাটি-বালু অবৈধভাবে লুট করা হয়েছে। এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলমান থাকবে।’
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, গোমতী নদী থেকে আজকের পর থেকে কেউ যেন এক কোদাল মাটিও কাটতে না পারে, এটা স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নদী ও চরের মাটি কাটার ফলে গোমতী নদীর পরিবেশ বিপর্যয়, বেড়িবাঁধ ও রাস্তাঘাটের ক্ষতি, আবাদি জমির উর্বরতা কমে গেছে। ট্রাক্টরের চাকার ধুলাবালুতে বাসাবাড়ির ক্ষতিসহ শিশু, বৃদ্ধসহ মানুষ বিভিন্ন রোগবালাইতে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া অবৈধ ইটভাটায় পরিবেশ নষ্ট, ফসল, ফল-ফলাদির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরে গোমতী নদীর চর ও ফসলি জমির মাটি কাটা, অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি ছিল স্থানীয় ভুক্তভোগীদের। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যের কঠোর হুঁশিয়ারির কারণে নদীর মাটি কাটা বন্ধ হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে অবৈধ কাজ বৈধভাবে শুরু করতে মাঠে নেমেছে একটি চক্র।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা সদরের অন্তত তিনজন বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, যেসব দুর্বৃত্তরা দীর্ঘদিন ধরে গোমতীকে লুটে খেয়েছে, তারাই এখন শ্রমিকশ্রেণির লোকজনকে সামনে এনে আবারও অবৈধ মাটি লুট শুরু করতে চাইছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত প্রশাসনের।