সংবাদ সম্মেলনে শাপলা বেগম অভিযোগ করেন, ২০১০ সালে পারিবারিকভাবে নওগাঁ সদর উপজেলার চুনিয়াগাড়ী গ্রামের মোজাফফর হোসেনের ছেলে আতিকুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর বাড়ি করার নামে তাঁর প্রবাসী বাবা সাইদুর রহমানের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা যৌতুক নেন আতিকুর। পরে গাইবান্ধায় কর্মরত অবস্থায় কারারক্ষী আতিকুর তাঁর ওপরে একাধিকবার নির্যাতন করেন। নাটোর ও বগুড়ায় থাকা অবস্থায় ঘুমের মধ্যে তাঁকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টা করেন তিনি।

শাপলা বেগম আরও বলেন, নির্যাতনের কারণ খুঁজতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামী বিয়ের কথা গোপন করে একাধিক মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট গ্রামের বাড়ি চুনিয়াগাড়ীতে নিয়ে তাঁকে সাদা কাগজে সই করার জন্য চাপ দেন আতিকুর। কিন্তু সই করতে রাজি না হওয়ায় স্বজনদের সহযোগিতায় আতিকুর তাঁকে মারধর করেন। পরে চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তৎকালীন চেয়ারম্যান বেদারুল ইসলাম তাঁকে উদ্ধার করেন।

লিখিত বক্তব্যে শাপলা বেগম বলেন, পরকীয়া ও নির্যাতনের অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট বগুড়া কারাগারের তৎকালীন জেলার শরিফুল ইসলামের কাছে যান তিনি। কিন্তু জেলার তাঁকে আলাদা একটি কক্ষে নিয়ে অশ্লীল ছবি দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেন। জেলারের এমন আচরণের জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রসচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বামী এবং জেলারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

শাপলা বেগম বলেন, ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলা করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর মামলাটি নওগাঁ সদর থানায় নথিভুক্ত হয়। ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি স্বামী ও শাশুড়িকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সংবাদ সম্মেলনে শাপলা বেগম বলেন, মামলার পর থেকেই তাঁকে এবং তাঁর মা–বাবাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। আতিকুর রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলিকে (পিপি) বলেছেন, তিনি নাকি জেলার শরিফুলের মধ্যস্থতায় দুই বছর আগে তাঁকে তালাক দিয়েছেন। মোহরানার টাকাও নাকি পরিশোধ করেছেন। মামলার পরবর্তী শুনানিতে জেলার শরিফুল নাকি এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসবেন। তালাক ও মোহরানা নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আতিকুর ও শরিফুলের সাজানো নাটক। তিনি মামলায় ন্যায়বিচার পাবেন কি না, সেটা নিয়ে সংশয়ে আছেন। তিনি স্ত্রী-সন্তানের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে কারারক্ষী আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আদালতে মামলা চলমান, যা বলার সেখানেই বলব। শুধু বলব, আমার বিরুদ্ধে নির্যাতন ও যৌতুকের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

জেলার শরিফুল ইসলাম বলেন, বগুড়ায় কর্মরত অবস্থায় কারারক্ষী আতিকুরের স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে তাঁর কাছে একবার এসেছিলেন। তিনি তাঁকে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন