হালচাষের সময় ট্রাক্টরে বসে ছিল স্কুলছাত্র, ছিটকে লাঙলের ফলার নিচে পড়ে মৃত্যু
হালচাষের জন্য ট্রাক্টরচালককে নিজেদের জমি দেখিয়ে দিতে গিয়েছিল স্কুলছাত্র অন্তর চন্দ্র বর্মণ (১২)। এ সময় ট্রাক্টরে উঠে চালকের পাশের আসনে বসে সে। নিজেদের জমি চাষ শেষে প্রতিবেশীর জমি চাষের সময় হঠাৎ ট্রাক্টর থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায় অন্তর। এতে ট্রাক্টরের লাঙলের ফলায় বিদ্ধ হয়ে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
গতকাল রোববার বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের নতুনহাট-ভোটাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অন্তর চন্দ্র বর্মণ নতুনহাট-ভোটাপাড়া এলাকার ক্ষীরেন্দ্রনাথ বর্মণের ছেলে। সে স্থানীয় বলরামহাট উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
নিহত স্কুলছাত্রের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মমিন বলেন, বিকেলে নতুনহাট-ভোটাপাড়া এলাকায় নিজেদের জমিতে হালচাষ করার জন্য ট্রাক্টরচালক আল আমিনকে জমি দেখিয়ে দিতে যায় স্কুলছাত্র অন্তর চন্দ্র বর্মণ। জমি চাষের সময় ট্রাক্টরচালকের পাশের আসনে বসে অন্তর এবং অনীক (১৪) নামের তাদের এক স্বজন। নিজেদের জমি চাষের পর প্রতিবেশী কুলেশ চন্দ্র বর্মণের জমি চাষ করছিল ট্রাক্টরটি। এ সময় হঠাৎ ট্রাক্টর থেকে নিচে পড়ে লাঙলের ফলার নিচে ঢুকে যায় অন্তর। এতে তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ঘটনার পরপরই ট্রাক্টর নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান চালক আল আমিন।
অন্তর চন্দ্র বর্মণের চাচা নীতেন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, অন্তরদের জমি চাষ শেষ হওয়ার পর অন্তর ও তার বড় ভাইয়ের শ্যালক অনীক ট্রাক্টর থেকে নেমে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু চালক তাদের দুজনকে নামিয়ে না দিয়ে কুলেশ চন্দ্র বর্মণের জমি চাষ করছিলেন। চাষের সময় দ্রুতগতিতে ঘোরানোর কারণে অন্তর ছিটকে পড়ে ফলার নিচে ঢুকে যায়। এ সময় চালক আল আমিন ট্রাক্টরে থাকা অপর কিশোর অনীককে নিয়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যান। বেশ কিছুদূর নিয়ে অনীককে নামিয়ে দেন এবং ঘটনাটি কাউকে না বলতে অনুরোধ করেন।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক গতকাল রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, চাষের সময় ট্রাক্টর থেকে পড়ে এক কিশোর মারা যাওয়ার খবর পেয়েছেন। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।