নিহত ব্যক্তি হলেন রায়পুরার নিলক্ষার গোপীনাথপুরের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে মোকলেছুর রহমান (৩৫)। তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুলিশ।

নিলক্ষা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাছাড়া একটি পক্ষ এলাকায় ঢুকতে গেলে প্রতিপক্ষের বাধায় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর বেলা ৩টার দিকে এ সংঘর্ষ থামে। বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় শান্তি ছিল, এ ঘটনায় আবার অশান্তি শুরু হলো।

দীর্ঘদিন ধরে এলাকাছাড়া একটি পক্ষ এলাকায় ঢুকতে গেলে প্রতিপক্ষের বাধায় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক দশকের বেশি সময় ধরে নিলক্ষা ইউনিয়নজুড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ সক্রিয়। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন সুমেদ আলী, অন্য পক্ষের নেতৃত্বে আছেন শহীদ মিয়া। দুই বছরের বেশি সময় থেকে সুমেদ আলী ও তাঁর শতাধিক সমর্থক পরিবার এলাকাছাড়া। আজ সকালে এলাকাছাড়া লোকজন ওই চার গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাধা দেন। এ সময় পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়। নিহত মোকলেছুর সুমেদ আলী পক্ষের সমর্থক ছিলেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বকুল মিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাছাড়া থাকা তিন শতাধিক লোক আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর, হরিপুর, দড়িগাও ও মধ্যপাড়া গ্রামে প্রবেশ করেন। পরে শহীদ মিয়া পক্ষের আলাল মুন্সির নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক স্থানীয় লোকও আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাধা দেন। এ সময় তাঁদের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একজন ঘটনাস্থলেই নিহত ও অন্তত পাঁচজন আহত হন। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সংঘর্ষ থামার পর রায়পুরা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ জানান, ‘এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি আমরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই গ্রামগুলোতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন