নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাবের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন

রাজশাহীতে নেসকোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘রাজশাহীর সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে’ মানববন্ধন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের হেতেমখাঁ এলাকায়ছবি : প্রথম আলো

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাবের প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে রাজশাহীর অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের হেতেমখাঁ এলাকায় নেসকোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘রাজশাহীর সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে’ এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের পর থেকে বিভাগীয় শহর হিসেবে রাজশাহীতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো এবং বহু শ্রমিক ও কর্মচারীর জীবিকা এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

বক্তারা আরও বলেন, যদি প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করা হয়, তাহলে নতুন করে অবকাঠামো নির্মাণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ব্যয় হবে। অথচ রাজশাহীতে ইতিমধ্যে সব ধরনের অবকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। তাই নেসকোর হেড অফিস রাজশাহীতেই রাখা উচিত।

বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি অসাধু চক্র ষড়যন্ত্র করে রাজশাহী থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ সময় বক্তারা প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই রাখার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বোয়ালিয়া থানা পশ্চিম বিএনপির আহ্বায়ক শামসুল হোসেন (মিলু), রাজশাহী নেসকো শ্রমিকদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম, মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুল ইসলাম, বোয়ালিয়া থানা পশ্চিম বিএনপির প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান প্রমুখ।

এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে একটি আধা সরকারি (ডিও) চিঠি দেন।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, নেসকোর অপারেশনাল এলাকা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে শুরু করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা পর্যন্ত বিস্তৃত। এ কারণে রাজশাহীতে সদর দপ্তর থাকায় রংপুর বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনায় সময়মতো সমন্বয় করা কঠিন হচ্ছে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মধ্যবর্তী জেলা হিসেবে বগুড়ায় সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে অপারেশনাল কার্যক্রমে গতি আসবে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে প্রতিমন্ত্রীর চিঠির পর ৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এই উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই রাজশাহীতে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ খাতের পুনর্বিন্যাস, পুনর্গঠন ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে জেনারেশন, ট্রান্সমিশন ও বিতরণ ক্ষেত্রের জবাবদিহি ও উন্নততর সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে সব সম্পদ ও দায়দায়িত্ব গ্রহণ করে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেড বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। নেসকো উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলার আওতাধীন ৩৯টি উপজেলা শহর ও শহরাঞ্চলের গ্রাহকদের ৬০টি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ/ বিদ্যুৎ সরবরাহ ইউনিটের মাধ্যমে গ্রাহক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।