উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বরিশালের উপাচার্য ছাদেকুল আরেফিন বলেন, যাঁরা বিজ্ঞানচর্চা করেন, তাঁরা বিশ্বকে ভিন্নভাবে উন্মোচন করার জ্ঞান লাভ করেন। কুসংস্কার তাঁদের স্পর্শ করতে পারে না। তাঁরা মুক্তচিন্তা করতে শেখেন, বুদ্ধিমত্তা আর যুক্তি দিয়ে সবকিছু প্রমাণের প্রয়াস পান। এ জন্য নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চার দিকে অগ্রসর হতে হবে। বিজ্ঞানভীতি দূর করে, বিজ্ঞানকে উপভোগ করে দেশ ও সমাজ এগিয়ে নিতে হবে।

এ ধরনের উৎসব বিজ্ঞানভীতি দূর করতে সাহায্য করবে উল্লেখ করে ছাদেকুল আরেফিন বলেন, ‘আগামী বিশ্ব হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বিশ্ব। এ জন্য আমাদের এই বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ার বিকল্প নেই।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকাশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী বিজ্ঞানে যেতে চায়। কিন্তু এরপর তারা ট্র্যাক পরিবর্তন করে। এটা আমাদের জন্য একটা ভয়াবহ নেতিবাচক দিক। কারণ, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, বিজ্ঞান এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের পিছিয়ে থাকলে চলবে না। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। বিজ্ঞানশিক্ষায় আগ্রহী করতে বিকাশ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তোমাদের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী মো. খোরশেদ আলম, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজ আলম, বরিশাল সরকারি কলেজের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. সাইদুর রহমান, এ আর এস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক রুমানা রহমান, বিজ্ঞানচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার, সহসম্পাদক উচ্ছ্বাস তৌসিফ ও প্রথম আলোর বরিশালের নিজস্ব প্রতিবেদক এম জসীম উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো বরিশাল বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক নাইম ইসলাম।

আয়োজকেরা জানান, ‘বিজ্ঞানে বিকাশ’ স্লোগান সামনে রেখে দেশব্যাপী সাতটি বিভাগীয় শহরে হচ্ছে আঞ্চলিক উৎসব। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা (ষষ্ঠ-দশম শ্রেণি) বিজ্ঞান প্রজেক্ট ও কুইজ প্রতিযোগিতা—দুই ক্যাটাগরিতে অংশ নেয় এ উৎসবে। পরে ঢাকার জাতীয় উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে আঞ্চলিক উৎসবে বিজয়ীরা। প্রতিটি উৎসবের বিজয়ীদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় পুরস্কার। পাশাপাশি আগ্রহীদের জন্য প্রতিটি আয়োজনে ছিল বিজ্ঞানবিষয়ক বইয়ের প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থা।

উদ্বোধন শেষে আজ বেলা ১১টায় শিক্ষার্থীদের কুইজ পরীক্ষা ও প্রজেক্ট প্রদর্শনী শুরু হয়। পরীক্ষা শেষে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বন্ধুসভার বন্ধুরা নৃত্য পরিবেশন করেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব। দুপুরে কুইজ পরীক্ষা ও প্রজেক্টের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। উৎসবে ১৯টি প্রজেক্ট প্রদর্শন করা হয়। কুইজে অংশ নেয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী।