পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে সাইদুলের সঙ্গে শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের সাবির আলীর মেয়ে রিপা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকে গায়ের রং নিয়ে সাইদুল তাঁর স্ত্রীকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে সাইদুল তাঁর স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ভরণপোষণ বন্ধ করে দেন। নিরুপায় হয়ে রিপা আক্তার ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর সুনামগঞ্জ পারিবারিক আদালতে সাইদুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর সাইদুলকে দেনমোহর ও বিগত দিনের ভরণপোষণ বাবদ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দেন আদালত। এ ছাড়া স্ত্রীকে সংসারে ফিরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সাইদুল ওই আদেশ অমান্য করায় আদালত চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গৃহবধূ রিপা আক্তার বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে আমার গায়ের রং নিয়ে আমার স্বামী নির্যাতন করতে থাকেন। আমি নিরুপায় হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমার মা জায়গাজমি বিক্রি করে আমার সংসার টিকিয়ে রাখতে অনেক টাকা দিয়েছেন। তারপরও স্বামীর নির্যাতন থেকে রেহাই পাইনি।’
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল রাতে সাইদুলকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।