আস্ত খাসি না দেওয়ায় তর্ক করলেন বর, বিয়ে না দিয়ে বের করে দিলেন কনের বাবা

বিয়ের আয়োজনে বরের জন্য আস্ত খাসি না রাখায় কনেপক্ষের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান বর। ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় বিয়ের আয়োজনে বরের জন্য আস্ত খাসি না রাখায় কনেপক্ষের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়েছেন বর। এ কারণে তাঁর সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় কনের পরিবার। খাবার খাওয়ানোর পর উপহারসামগ্রীসহ বরের পরিবারকে বিদায় করে দেন কনের স্বজনেরা। গতকাল সোমবার উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বর নিজেও ফেসবুকে ঘটনাটি নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বর জুনায়েদ মিয়া জাপানপ্রবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কসবার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জুনায়েদ মিয়ার সঙ্গে আখাউড়ার তোলাতলা গ্রামের সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে রাশেদা আক্তারের বিয়ের তারিখ নির্ধারণ হয় গতকাল। দুপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে কনের বাড়িতে যায় বরপক্ষ। এ সময় বরকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। কিন্তু ফুলের তোড়া নিয়ে বর জুনায়েদ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

বরের ভাই বিষয়টি নিয়ে বর জুনায়েদকে শান্ত করানোর চেষ্টা করে। বর একপর্যায়ে তার ভাইকে বিয়ে করতে বলে। এতে আমি এই ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
সফিকুল ইসলাম,কনের বাবা

বরপক্ষের ১৫০ জনসহ উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজনদের খাওয়াদাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বর, বরের ভাই ও চাচার জন্য তিনটি বড় ডালায় করে বিশেষ খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে আস্ত খাসি না থাকায় আপত্তি জানান জুনায়েদ। এ নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে বরের সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কনের পরিবার। একপর্যায়ে সব উপহারসামগ্রী, স্বর্ণালংকারসহ বরপক্ষকে ফিরে যেতে বলে কনেপক্ষ।

কনের বাবা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খাবারে আস্ত খাসি না থাকায় আপত্তি জানায় বর। বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। খাসির কথা আগে বলা হয়নি বলে বরকে জানিয়েছি। বিয়ের পরের অনুষ্ঠানে আস্ত খাসি খাওয়ানোর কথাও বলেছিলাম। বরের ভাই বিষয়টি নিয়ে বর জুনায়েদকে শান্ত করানোর চেষ্টা করে। বর একপর্যায়ে তার ভাইকে বিয়ে করতে বলে। এতে আমি এই ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

তবে বর জোনায়েদ মিয়া আজ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘খাওয়াদাওয়া শেষে মেয়েপক্ষ আমার কাছে পূর্বনির্ধারিত অ্যামাউন্টের চেয়ে ১০ গুণ অতিরিক্ত কাবিন দাবি করে। আমি, আমার পরিবার তা দিতে অস্বীকার করলে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। তারা আমাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয়।’

ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশিক মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। ছেলেটা খাবার নিয়ে খারাপ আচরণসহ বেয়াদবি করেছে। এতে মেয়ের বাবা ওই ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। পরে সব জিনিসপত্রসহ বরপক্ষকে চলে যেতে বলেন।’