কলেজ প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, আজ সকাল ১০টায় কলেজের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফার্মেসি), ডাটাএন্ট্রি অপারেটর ও ড্রাইভার পদে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এ জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে ৮০০ আবেদনকারী সকালে কলেজের ফটকে হাজির হন।

এদিকে পরীক্ষা কমিটির সদস্য হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের একজন প্রতিনিধি কলেজ ক্যাম্পাসে আসেন পরীক্ষা নিতে। তিনি পরীক্ষা কমিটিকে বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে। নতুন করে প্রশ্নপত্র তৈরি করে প্রয়োজনে এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এতে পরীক্ষা কমিটির অন্য সদস্যরা রাজি না হওয়ায় ওই প্রতিনিধি নিয়োগ পরীক্ষায় থাকতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে নোটিশ জারি করে।

কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা শুনেছেন, যেসব পদে লোক নেওয়া হবে, তাঁদের আগেই চূড়ান্ত করে ফেলা হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও নির্দিষ্ট ওই প্রার্থীদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে শোনা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের খবর পেয়ে কলেজের ফটকে উপস্থিত চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় কলেজের নিরাপত্তাপ্রহরীদের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি হয়। পরে তাঁরা কলেজের সামনের নোয়াখালী-কুমিল্লা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ এসে তাঁদের সরিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কলেজের অধ্যক্ষ আবদুস সালামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে কলেজের উপাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি ধরেননি।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করায় পরীক্ষার্থীরা কলেজের ফটকে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা এ সময় সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়। তবে এ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।