পুলিশ ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী জেলা বিএনপির কার্যালয়ে তেল, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছিল। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মনজুর এলাহীসহ জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের একপর্যায়ে মাধবদী পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য শেষ হলে মঞ্চে বক্তব্য দিতে আসেন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ ফকির। এ সময় আবদুর রউফ ফকিরের অনুসারীরা আনোয়ার হোসেনের কয়েকজন কর্মীকে মঞ্চের পেছনের সারির চেয়ার ছেড়ে মঞ্চ খালি করতে বলেন। এ নিয়ে আবদুর রউফ ফকির ও আনোয়ার হোসেনের অনুসারীদের মধ্যে তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে তাঁদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় লাঠি ও প্লাস্টিকের চেয়ারের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। পরে তাঁদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সংঘর্ষের সময় মঞ্চে দাঁড়িয়ে দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করছিলেন খায়রুল কবির খোকন ও মনজুর এলাহী। তবে ব্যর্থ হয়ে সমাবেশ শেষ হওয়ার আগেই প্রাইভেট কারে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তাঁরা। এ সময় অন্য নেতারাও যে যাঁর মতো ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

সংঘর্ষের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবদুর রউফ ফকির ও আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

খায়রুল কবির খোকন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুঃখজনক এই ঘটনা যখন ঘটে, তখন আমরা মঞ্চে অবস্থান করছিলাম। মঞ্চের চেয়ারে বসা নিয়ে সাবেক দুই ছাত্রদল নেতার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এরই মধ্যে বাড়িতে ফিরেছেন।’

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ তালুকদার বলেন, বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে নেতা-কর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ান। তাঁদের সংঘর্ষে যেন সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি না হয়, সে জন্য পুলিশ সতর্ক ছিল। এই ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন