সালথায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ–ভাঙচুর–আগুন, আহত ১৩
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ও আটঘর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, পাটখড়ির গাদা ও রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে দিবাগত রাত দুইটা পর্যন্ত ইউনিয়নের অন্তত পাঁচটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন বাড়িতে রয়েছেন। অন্য ১০ জন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়াগট্টি বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় নুরু মাতুব্বর ও জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। জাহিদ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি বিএনপির সমর্থক। নুরু মাতুব্বর সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। তিনিও ৫ আগস্টের পর সালথা উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসারের সঙ্গে বিএনপিতে যোগ দেন। যদিও বিএনপিতে কোনো পদ–পদবি তিনি পাননি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় বালিয়াগট্টি বাজারে জাহিদ ও নুরুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় নুরু মাতুব্বরের দুই সমর্থক বালিয়াগট্টি গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার মাতুব্বরের পাটখড়ির গাদায় ও জাফর মাতুব্বরের রান্নাঘরে আগুন ধরিয়ে দেন জাহিদ মাতুব্বরের লোকজন। রাত আটটার দিকে জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক সিরমান শিকদার, রবিউল শিকদার ও কুবাত শিকদারের অন্তত পাঁচটি টিনের বাড়ি ও টিনের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়। পরে গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া, বালিয়াগট্টি ও গট্টি গ্রাম এবং পাশের আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া ও খোয়ার গ্রামে জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে দিবাগত রাত দুইটা পর্যন্ত চার দফা সংঘর্ষ হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এ বিষয়ে গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ‘কিছুই জানি না’ বলে কেটে দেন। পরে কথা হয় গ্রাম পুলিশ শিখা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, রাতে পুলিশ এসে একদিক দিয়ে থামিয়ে লোকজনকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়, আবার অন্যদিকে মারামারি লেগে যায়। পরে আরও পুলিশ এলে দিবাগত রাত দুইটার পর সবাই যে যার ঘরে ফিরে যায়।
সালথা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা আবদুল জলিল বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় বালিয়াগট্টি বাজারে একটি রান্নাঘর ও পাটখড়ির গাদায় আগুন ধরলে এলাকাবাসী আমাদের খবর দেন। সেখানে গিয়ে আমাদের সদস্যরা আগুন নেভান। আগুনের তীব্রতা খুব বেশি না থাকায় অল্প সময়েই আমরা আগুন নিভিয়ে চলে আসতে পেরেছি।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগও দেয়নি। ওই এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে পুরো এলাকায় পুলিশের তিনটি দল মোতায়েন করা হয়েছে।