হরিজন সম্প্রদায়ের দিপ্ত বাবুর এগিয়ে যাওয়ার লড়াই, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ

দিপ্ত বাবুছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সীমিত সুযোগ–সুবিধা, সামাজিক বৈষম্য আর অর্থনৈতিক সংগ্রামের মধ্যেই বড় হয়েছেন দিপ্ত বাবু। হরিজন সম্প্রদায়ের এক শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান হয়েও থেমে থাকেননি। মেধা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি এবার ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগে।

দিপ্তর বাবা রাজু ভকত ও মা চামেলী বাঁশফোড় পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তাঁরা উভয়ই নাচোল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। তাঁরা জানান, অনেক সময় সামাজিক অনুষ্ঠানে বা সাধারণ জায়গাতেও তাঁরা অবহেলার শিকার হন। এ বাস্তবতার মধ্যেই দিপ্তর সাফল্য পরিবারে এনে দিয়েছে অন্য রকম আনন্দ।

দিপ্ত বাবুর বড় ভাই পরান বাবু নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগে সম্মান শ্রেণির চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন নাচোল ইউএনও কার্যালয়ে। তিনি বলেন, সমাজে সবচেয়ে অবহেলা ও উপেক্ষার শিকার হরিজনেরা। এমন পরিস্থিতিতে দিপ্তর এই সাফল্য তাঁদের গর্বিত করেছে, তাঁদের প্রতি মানুষের অবহেলার ছোট্ট জবাব দিয়েছে। একদিন আরও সাফল্য পাবে দিপ্ত, বুঝিয়ে দেবে হরিজনেরাও পারে।

দিপ্ত বাবু পড়াশোনা করেছেন নাচোল উপজেলা স্কুলে। সেখান থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পান।

পড়াশোনার পথে দিপ্ত সহায়তা হিসেবে পেয়েছেন প্রথম আলো ট্রাস্টের বৃত্তি। সানিডেইলের সহযোগিতায় প্রথম আলো ট্রাস্ট এই শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে। অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি দিপ্ত ও তাঁর পরিবার জানায়, এই সহায়তা না পেলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন হতো। এ জন্য তাঁরা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রথম আলোর প্রতিও।

শিক্ষকদের ভাষ্য, দিপ্ত শুধু মেধাবী ছাত্র নন—তিনি ভালো বিতার্কিক, ইংরেজিতেও দক্ষ, আবৃত্তি ও বক্তৃতায়ও পারদর্শী। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা মনে করেন, সঠিক সহায়তা পেলে দিপ্ত আরও বড় জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন।

মা–বাবা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণাকে নিজের শক্তি বলে মনে করেন দিপ্ত বাবু। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া হরিজনসহ অন্য জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করতে চান ভবিষ্যতে। তাঁর বিশ্বাস, সুযোগ পেলে প্রান্তিক মানুষও সমাজের মূল ধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।