চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ। তবে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু নাছের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা বরাদ্দ পেয়েছেন। তাঁর প্রতিনিধি আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা বিভাগীয় কমিশনারের কাছ থেকে প্রতীক বরাদ্দ নেন।
এরপর আজ বেলা আড়াইটার দিকে নগরের দেওয়ান বাজারে নগর জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে জামায়াতের প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানানো হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আবু নাছের উপস্থিত ছিলেন না। জামায়াতের প্রার্থীর আসন পরিচালক ও নগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী আবু নাছেরের পক্ষে বক্তব্য দেন।
মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জোটের স্বার্থে চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করছেন। আবু নাছের অসুস্থ থাকায় নিজে উপস্থিত হতে পারেননি। ঢাকায় অবস্থান করায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারও করতে পারেননি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেলে আইনিভাবে নির্বাচন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোটের ব্যালটে এনসিপি ও জামায়াত-দুই দলের প্রতীক থাকবে। জামায়াতের দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ও এনসিপির দলীয় প্রতীক শাপলা কলি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-৮ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে আমরা দুই প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দের তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছি নির্বাচন কমিশনে। প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেছে, এখন আর সুযোগ নেই।’
এর আগে জামায়াত নেতা মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় গত মঙ্গলবার রাতে নগরের বহদ্দারহাট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপি প্রার্থীকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সেখানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। তিনি ওই আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, ‘আমি জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা জানিয়েছে, দলের প্রার্থী আবু নাছের চট্টগ্রামে না থাকার কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি।’