অন্যকে ভোট দিতে বাধা দিলে আপনারাও শেখ হাসিনা হয়ে যাবেন: আসিফ নজরুল

বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আজ সোমবার দুপুরে তোলাছবি: প্রথম আলো

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আমরা অসাধারণ একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করব। যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেব, অন্যকে ভোট দিতে বাধা দেব না। অন্যের ভোটাধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করব না। অন্যকে ভোট দিতে বাধা দিলে আপনারাও শেখ হাসিনা হয়ে যাবেন।’

আজ সোমবার দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

আইন উপদেষ্টা বলেন, গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণকে ভোট দিতে দেয়নি। টানা ১৫ বছর দেশের মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। কখনো দিনের ভোট রাতে করা হয়েছে, কখনো প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচন হয়েছে, আবার কখনো ভুয়া ও জাল ভোটের মাধ্যমে নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং দেশকে অন্য দেশের হাতে তুলে দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করা হয়েছে।

আসিফ নজরুল বলেন, ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আবার ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখন কে সরকার গঠন করবে, কে জনপ্রতিনিধি হবে, তা নির্ধারণ করবে দেশের ১৮ কোটি মানুষ। আগে এ সিদ্ধান্ত নিতেন শেখ হাসিনা, এখন নেবে জনগণ।

এবারের নির্বাচনে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটছে জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসীরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারের সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে জানিয়ে সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, এখন জনগণের মতামত দরকার। বৈষম্য, নিপীড়ন ও দুর্নীতি দূর করতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে দাখিল হয়েছে। বাদীপক্ষ এতে নারাজি দিয়েছে। বর্তমানে পুলিশের আরেকটি সংস্থা পুনঃ তদন্ত করছে। অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিচারকাজে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ করা হবে না।