ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক
যানজটে ভোগান্তি কয়েক লাখ মানুষের
পর্যাপ্তসংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্ক করায় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সড়কটির দুই পাশে প্রায় সময়ই গাড়ি থামিয়ে মালামাল ওঠানো-নামানো হয়। আছে গাড়ির অবৈধ পার্কিং। এতে প্রতিদিন অসহনীয় যানজটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক লাখ মানুষ। কোনো কোনো দিন অবস্থা এমনও হয় যে পাঁচ কিলোমিটার সড়ক পার হতে চলে যায় কয়েক ঘণ্টা। এতে দিনের পর দিন নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা। এই পরিস্থিতি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পঞ্চবটী থেকে মুন্সীখোলা পর্যন্ত। অথচ এই সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো ট্রাফিক পুলিশ।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের ফতুল্লার পঞ্চবটী থেকে মুন্সীখোলা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ইট, বালু, রড, পাথর, সুরকি ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর হাজারো দোকান। রাজধানীর ঢাকাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে এখান থেকে নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ হয়। এ ছাড়া এই সড়কের আশপাশে বড় বড় শিল্পকারখানাও রয়েছে। ফলে এই সড়কে মালবাহী কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকের চলাচল বেশি।
মূলত দুই পাশে ট্রাক থামিয়ে নির্মাণসামগ্রী ওঠানো-নামানো ও অবৈধভাবে পার্ক করায় এই সড়কে যানজট হচ্ছে। একবার যানজট লাগলে তা কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থাকে যানজট। পাগলা বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মোবারক আলী বলেন, ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় এই সড়কে কোনো শৃঙ্খলা নেই। যানজটে ভোগান্তির কারণে অনেকে এই সড়কে আসতে চান না।
এই সড়কে দ্রুত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের দাবি চালকদেরও। ট্রাকচালক আবদুল মতিন বলেন, ‘সড়কের প্রশস্ততা কম। সবাই আগে যাইতে গিয়্যা যানজট লাগে। দুই লেনের সড়ক তিন লেন ও চার লেন হয়ে যায়। যানজট লাগলে ১০ মিনিটের পথ যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি লাগে। যানজট লাগলে ছোটানোর কেউ নেই।’
রাস্তায় বড় কোনো গাড়ি নষ্ট হলে বা ঘোরাতে গেলে প্রায়ই লেগে যায় যানজট। সম্প্রতি সড়কের পঞ্চবটী মোড়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট হারুন অর রশীদ।
প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সড়কে প্রতিদিন অফিস সময় সকাল, বিকেল ও সন্ধ্যার পর থেকে যানজটের সৃষ্টি হয়। সেখানে যানজট নিরসনে কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন, প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশ গিয়ে কাজ করে, তবে সেটি নিয়মিত নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের ৮৫টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে পরিদর্শক পদে ৮ জন, ট্রাফিক সার্জেন্টের ১৫টি পদের বিপরীতে ৮ জন এবং কনস্টেবল পদে আছেন ৪৮ জন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকের আগে নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের জন্য জনবল দেওয়া হয়েছে, একই সংখ্যক জনবল দিয়ে ২০২২ সালের ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যার গুরুত্ব বিবেচনা করে সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশের জনবল ও রাস্তা সম্প্রসারিত হয়নি। সীমিত জনবল দিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহান সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ওই সড়কে এমনিতেই যানজট লেগে থাকে। তবে জনবল-সংকটের কারণে সেখানে কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। সেখানে ট্রাফিক পুলিশ দেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।