বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী দুজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের শহীদ মসিয়ূর রহমান হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর ফয়সালের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের একটির নেতৃত্ব দেন ফয়সাল। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন সভাপতি সোহেল রানা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সই করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ছাত্রদের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে অস্ত্রধারী দুই শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম ও আসিফ আহমেদকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপের দায়ে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত চলাকালে তাঁদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। সেই সঙ্গে শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্টকে ওই দুই শিক্ষার্থী যাতে হলে প্রবেশ বা অবস্থান করতে না পারেন, সেই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটির তদন্তকাজে সহায়তা করার জন্য শিক্ষার্থী দুজন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন।

যবিপ্রবি রেজিস্ট্রারের সই করা আরেকটি অফিস আদেশে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠনের কথা জানানো হয়েছে। কমিটির অপর দুজন হলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হাফিজ উদ্দিন ও প্রক্টর হাসান আল-ইমরান। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বছর পাঁচেক আগে ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মসিয়ূর রহমান হলে ডাকাতি হয়। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসানের উদ্দেশে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন ডাকাতির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী নুরুল আমিন। নুরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সোহেল রানার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এ স্ট্যাটাসে ক্ষুব্ধ হন সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম শামীম হাসানের ভাগনে ও যবিপ্রবি ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তানভীর ফয়সাল ও তাঁর অনুসারীরা। এ ঘটনার জেরে গত রোববার সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কদমতলায় তানভীর ফয়সালের অনুসারী সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলামসহ কয়েকজন অস্ত্র দিয়ে সভাপতি সোহেল রানার অনুসারীদের ধাওয়া করেন। এরপর কদমতলা থেকে তানভীর ফয়সালের অনুসরীরা শহীদ মসিয়ূর রহমান হলে এসে অবস্থান নেন। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে সভাপতি সোহেল রানার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা হলে প্রবেশ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সাংবাদিকসহ পাঁচজন আহত হন।