ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

রায় ঘোষণার পর আসামিকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আজ সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতেছবি: প্রথম আলো

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। একই মামলায় অপর একটি ধারায় আসামিকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে তিনি এই দুই ধারার কারাদণ্ড একই সঙ্গে ভোগ করতে পারবেন।

এর আগে ২০২০ সালের ১৭ জুলাই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

আজ সোমবার বেলা একটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁকে পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লা (৩১) ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের ঘোড়াদহ বাজারের বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগম (২১) একই উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পারিবারিকভাবে জোসনা ও রাশেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর রাশেদ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেন। এরপর স্ত্রীকে তাঁর সোনার চেইন ও কানের দুল বিক্রি করে টাকা দিতে বাধ্য করেন। এসব টাকা দিয়ে তিনি মাদক সেবন করতেন। ২০২০ সালের ১৬ জুলাই আবারও স্ত্রীর কাছে তিনি ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। এই টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারধর করেন। এরপর ঘরে থাকা কেরোসিন তেল স্ত্রীর শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা জোসনাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ১৭ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই দিন জোসনার বড় ভাই জলিল শেখ বাদী হয়ে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় রাশেদ ও তাঁর বড় ভাই হাসিব মোল্লাকে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুজ্জামান। তিনি ২০২১ সালের ১৪ মার্চ মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যে ধারায় আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, সেই টাকা আসামিকে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় আসামি রাশেদের ভাই হাসিব মোল্লাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।