অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গিয়েছিলেন সৌদিতে, ছেলেকে কোলে নেওয়া হলো না মতিউরের

নিহত মতিউর রহমানছবি: সংগৃহীত

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ মতিউর রহমান (২৫)। প্রবাসে যাওয়ার তিন মাসের মাথায় তাঁর একটি ছেলেসন্তান হয়। সেই ছেলেকে কোলে নেওয়ার আগে সৌদিতে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় গত সোমবার রাতে দেশটির রাজধানী রিয়াদের হারা এলাকায় ভাড়া বাসায় তিনি খুন হন। রুমমেটদের সঙ্গে রান্না নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে মারধর ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা বলে অভিযোগ। সৌদিতে থাকা এক স্বজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে সৌদি পুলিশ।

নিহত মতিউর রহমান সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের বাঘারপাড় গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি সৌদি আরবে যান। রিয়াদের হারা এলাকায় একটি বাসার একটি কক্ষে ছয়জন মিলে ভাড়া থাকতেন।

মতিউরের ভাই সাইফুর রহমান জানান, গত সোমবার রাতে রান্না নিয়ে একই কক্ষে থাকা দুই ভাই নজরুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলামের সঙ্গে মতিউরের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই ভাই মিলে মতিউরকে মারধর করেন। পরে ছুরিকাঘাত করলে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় মতিউরকে হাসপাতালে না নিয়ে রুমমেটরা পালিয়ে যান। পরে ওই কক্ষে থাকা কোম্পানীগঞ্জের একজনের মাধ্যমে তাঁরা বিষয়টি মঙ্গলবার সকালে জানতে পারেন। এরপর সৌদিতে থাকা এক স্বজনকে বিষয়টি জানালে তিনি পুলিশ নিয়ে মতিউরের মরদেহ উদ্ধার করেন।

সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাই পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর জন্য সৌদিতে গিয়েছিল। মাত্র ছয় মাস হয়েছে। দেশে তার তিন মাসের একটি ছেলে আছে। ছেলেটা এখনো বাবাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি। অথচ বাবা মারা গেল।’ তিনি বলেন, মতিউরের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই তাঁর স্ত্রী বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার সকালে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।