মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাজধানীতে তাবিথ আউয়ালসহ বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অনুসারীদের নিয়ে রাত নয়টায় তিনি ভুলতা এলাকায় মশালমিছিল করেন। মিছিল শেষ করে বাড়ি ফেরার পর রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বাড়ির প্রধান ফটকের তালা ভেঙে হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে অন্তত আটটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। হামলাকারীরা তাঁর বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ মা–বাবা, কিশোরী বোন, কিশোর ভাতিজা ও বড় ভাইকে পিটিয়ে আহত করেন। মারধরে তাঁর মায়ের হাত ও পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। মারধরের পর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত তাঁর বাবা কথা বলতে পারছেন না। তাঁদের রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার সময় বাড়ির বাইরে একটি গাড়িতে পুলিশ উপস্থিত ছিল। তাদের উপস্থিতিতেই হামলা হয়েছে। তারা সবই জানে। চাইলে তারা তখনই হামলাকারীদের প্রতিহত করতে পারত।
মাসুদুর রহমান, সহসভাপতি, রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল, নারায়ণগঞ্জ

মাসুদুর জানান, হামলার সময় বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুরো বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পরে হামলাকারীরা বাড়িতে থাকা ৭৩ হাজার টাকা, টেলিভিশন ও তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দেড় লাখ টাকা মূল্যের সাবান লুট করে নিয়ে গেছেন।
থানায় অভিযোগ করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে মাসুদুর বলেন, ‘হামলার সময় বাড়ির বাইরে একটি গাড়িতে পুলিশ উপস্থিত ছিল। তাদের উপস্থিতিতেই হামলা হয়েছে। তারা সবই জানে। চাইলে তারা তখনই হামলাকারীদের প্রতিহত করতে পারত। এখন উল্টো আমিসহ আমার মা–বাবার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হবে বলে খবর পাচ্ছি।’

হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে ছাত্রদল নেতা মাসুদুর রহমান বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়সাল, তাঁর ভাই যুবলীগ নেতা মো. রানা, উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নাজমুল হাসান, যুবলীগ নেতা আল আমিন, আবদুল্লাহসহ কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন।

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রদলের সহসভাপতির বাসা ভাঙচুর হয়েছে, সেখানে আমার পুলিশ ছিল, এমনটা কেউ দাবি করেনি। আমি যা জেনেছি, তা হলো সেখানে ছাত্রদলের মিছিল যাওয়ার সময় কিছু মোটরসাইকেল ছিল। সেগুলো তারা ভাঙচুর করে চলে গেছে।’

ভুলতা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাকিল আহমেদ দাবি করেন, মাসুদুরের বাড়িঘরে হামলার আগে হামলাকারীরা তাঁর বাড়িতে আক্রমণ করেন। বাড়ির প্রধান ফটক ভাঙতে না পেরে তাঁরা বাড়ির সামনে থাকা তাঁর মুদিদোকানের তালা ভেঙে লুটপাট করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এতে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ২০ বস্তা চালসহ অন্তত ৯ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল লুট হয়েছে।

শাকিল আহমেদ বলেন, ‘রাজনীতি বলতে মিছিলের বদলে পাল্টা মিছিল, সমাবেশের বদলে পাল্টা সমাবেশ হয় বলে জানতাম। কিন্তু তারা যেভাবে বাড়িঘরে ঢুকে বৃদ্ধ মা–বাবা, ভাইবোনদের মারধর করছে, যেভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুট করছে, এটা রাজনীতির নোংরা অধ্যায়। এগুলো রাজনীতি নয়, রাজনীতির নাম ভাঙিয়ে রীতিমতো ডাকাতি।’
পরে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতা-কর্মীর দোকান ও রেস্তোরাঁ লুট হয়েছে বলে দাবি করেন শাকিল আহমেদ।

রাজনীতি বলতে মিছিলের বদলে পাল্টা মিছিল, সমাবেশের বদলে পাল্টা সমাবেশ হয় বলে জানতাম। কিন্তু তারা যেভাবে বাড়িঘরে ঢুকে বৃদ্ধ মা–বাবা, ভাইবোনদের মারধর করছে, যেভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুট করছে, এটা রাজনীতির নোংরা অধ্যায়। এগুলো রাজনীতি নয়, রাজনীতির নাম ভাঙিয়ে রীতিমতো ডাকাতি।
শাকিল আহমেদ, সভাপতি, ভুলতা ইউনিয়ন যুবদল, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামলার আগে রাত নয়টার দিকে ছাত্রদল নেতা মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বলাইখাঁ থেকে ভুলতা পর্যন্ত একটি মশালমিছিল বের করা হয়। মিছিলের খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দল বেঁধে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও মহিলা লীগের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা গোলচত্বর এলাকায় হওয়া প্রতিবাদ সভায় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল হক ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা আলামিন, আবদুল্লাহ, উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নাজমুল হাসান সবুজসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবাদ সমাবেশের পরই হামলার ঘটনাগুলো ঘটে।

রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আগেও কাঞ্চন পৌরসভা ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নে নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট হয়েছে। এবার বাড়ির বৃদ্ধ ও কিশোর-কিশোরীদের ওপর হামলা হলো। হামলার সময় পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এর বিচার শুধু জনগণের কাছেই তাঁরা দেবেন।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এটা শুনিইনি। আমাদের আওয়ামী লীগের লোকজনের এমনটা করার কথা নয়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন