মানিকগঞ্জ সদরে মাঠছাড়া এমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৭। এসব বিদ্যালয়ের শিশুরা খেলাধুলা করতে পারে না। বিদ্যালয়ে শিশুদের সমাবেশও (অ্যাসেম্বলি) করতে হয় দায়সাড়াভাবে। মাঠ নেই এসব বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে অন্য কোনো স্থানে।

জেলার সাতটি উপজেলায় কতগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই, এ তথ্য জানতে সম্প্রতি এই প্রতিবেদক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। তবে ওই কার্যালয়ে এ–সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারী বলেন, জেলায় মোট ৬৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তবে এসব বিদ্যালয়ের কতটির খেলাধুলার মাঠ নেই, সেই তথ্য তাঁর কাছে নেই। তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঘিওর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও জানান, তাঁর উপজেলায় কতগুলো বিদ্যালয়ে মাঠ নেই, সে তথ্য জানা নেই।

তবে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় মোট ১২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মাঠ আছে ৫৩টি বিদ্যালয়ে। বাকি ৬৭টিতে খেলার মাঠ নেই।

জয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে খুবই অল্প পরিমাণ ফাঁকা জায়গা। সেখানেই শিশুরা ছোটাছুটি করছে। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র স্বপন হোসেন বলে, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ না থাকায় আমরা খেলাধুলা করতে পারি না। আমরা খেলাধুলার জন্য মাঠ চাই।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনা মমতাজ বলেন, বিদ্যালয়ে মাঠ না থাকায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও করতে হয় অন্য কোনো ফাঁকা স্থানে গিয়ে দায়সারাভাবে। পাঠদান শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ শ্রেণিকক্ষেই করতে হয়।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন রেজা বলেন, একটি বিদ্যালয়ের জন্য ন্যূনতম ৩৩ শতক জমির প্রয়োজন। অধিকাংশ বিদ্যালয়ের জমিদাতারা স্কুলের জায়গায় ধর্মীয় বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান করেন। এ কারণে অনেক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। এই চিত্র সারা দেশেই। সহজেই এই চিত্র পাল্টাবে না।

ঘিওর উপজেলার বড়বিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও মাঠ দেখা যায়নি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহিদা বেগম বলেন বলেন, খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মাঠ না থাকায় খেলাধুলার অভাবে শিশুরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে।