ঘটনার পর শুক্রবার ছিল সাপ্তাহিক বন্ধ। শনিবারও কারখানাটির অনেক কর্মীর ছুটি ছিল। ছুটি শেষে রোববার শ্রমিকেরা প্রতিদিনের মতো কাজ করতে কারখানায় যান। এ সময় তিন শ্রমিককে মারধরের খবর শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর শোনার পর শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা কোয়ালিটি ম্যানেজার মহসিন উজ্জামানের অপসারণ দাবি করেন। খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। শ্রমিকেরা মারধরের প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিকেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোয়ালিটি ম্যানেজার মহসিনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। এতেও শ্রমিকেরা শান্ত না হয়ে কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোক্তার হোসেন এবং মানব সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা (প্রশাসন) কামরুজ্জামানেরও অপসারণ দাবি করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানা এক দিনের ছুটি ঘোষণা করে। এরপরও শ্রমিকেরা কর্মসূচি কিছুক্ষণ অব্যাহত রেখে বাসায় চলে যান।

কারখানার একাধিক শ্রমিক জানান, বিনা কারণে তিন শ্রমিককে মারধর করা হয়েছে। মাঝেমধ্যে সামান্য ভুল হলে শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। এর আগে বিনা কারণে কারখানার ৭০ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। কারখানার তিন শ্রমিককে মারধর এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে তাঁরা কারখানায় কর্মবিরতি পালন করছেন। এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে কি না, এ বিষয়ে শ্রমিকদের তরফ থেকে কিছু বলা হয়নি।

কারখানা ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোক্তার হোসেন বলেন, হালকা মারধরের ঘটনাকে শ্রমিকেরা বড় করে দেখছেন। তারপরও শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। এমন অবস্থায় পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কারখানায় এক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর পরিস্থিতি শান্ত হয় জানিয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশের ওসি নিতাই চন্দ্র সরকার বলেন, কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।