পারিবারিক বিরোধে ছাত্রীকে হাতুড়িপেটা, হাত ভেঙে যাওয়ায় এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারছে না
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে হাতুড়ির আঘাতে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ডান হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর চাচার বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের শাঁখারিকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ওই শিক্ষার্থীর নাম বীথি আক্তার (১৫)। সে শাঁখারিকাঠি গ্রামের বাদল হাওলাদারের মেয়ে এবং তুষখালী তোফেল আকন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম। তিনিও শাঁখারিকাঠি এলাকার বাসিন্দা।
পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জমির সীমানা নিয়ে বীথির বাবা বাদল হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই ও প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম (৩৩) ও রাহাতের (১৮) বিরোধ চলছিল। রান্নাঘরের ধোঁয়া যাওয়া নিয়ে গতকাল বিকেলে উভয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ বিষয়ে জানতে গেলে বীথির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালালে বীথির ডান হাতের হাড়ে চিড় ধরে।
পরে আহত অবস্থায় স্বজনেরা প্রথমে বীথিকে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় বীথি আক্তার বলেন, ‘আমার অনেক স্বপ্ন ছিল এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। আমার বাঁ হাত ভাঙলেও আমি কোনোভাবে পরীক্ষা দিতে পারতাম, কিন্তু তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ডান হাত ভেঙে দিয়েছে।’
পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে গেলে তাঁদের পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার পরপরই পরিবারটির সদস্যেরা গা ঢাকা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আজ দুপুর পর্যন্ত কেউ অভিযোগ জানায়নি।