আমরা নামে মাত্র প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় বাস করি। ভ্যাট-ট্যাক্স প্রথম শ্রেণির দিই, কিন্তু সেই অনুযায়ী সেবা থেকে আমরা বঞ্চিত।
আশিকুজ্জামান সৌরভ, পৌর শহরের বাসিন্দা

পৌর শহরের বাসিন্দা আশিকুজ্জামান সৌরভ (৩০) বলেন, ‘আমরা নামে মাত্র প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় বাস করি। ভ্যাট-ট্যাক্স প্রথম শ্রেণির দিই, কিন্তু সেই অনুযায়ী সেবা থেকে আমরা বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পৌরসভার সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। এ জন্য ১০ টাকার রিকশা ভাড়া ২০ টাকা দিতে হয়। অনেক সময় খারাপ রাস্তার কারণে রিকশা-ভ্যান আসতে চায় না। এই রাস্তা দিয়ে রোগী নিয়ে গেলে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর আগের মেয়র-কাউন্সিলররা প্রতিশ্রুতি দিতে দিতে তাঁদের সময় পার করেছেন। এখন নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাঁরা মেয়র-কাউন্সিলর হয়েছেন, তাঁদেরও কোনো উদ্যোগ নেই।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, কায়েতপাড়া স্টেডিয়াম মোড় থেকে পঞ্চগড় বাজার পর্যন্ত সড়কের পিচঢালাই উঠে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের বানিয়াপট্টি থেকে কামাতপাড়া, সিনেমা হল রোড থেকে রাজনগড়, বকুলতলা থেকে তুলারডাঙ্গা, ধাক্কামারা পুরোনো সড়ক ভবন থেকে নিমনগর সড়কসহ প্রায় প্রতিটি সড়ক বেহাল। রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন ঝাঁকুনি খেতে খেতে যায়।

কায়েতপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইউসুফ আলী (৬৫) বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে স্টেডিয়াম মোড় থেকে পঞ্চগড় বাজার সড়কের সংস্কারকাজ হয়েছিল। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে সড়কটির পিচঢালাই উঠে প্রায় সব জায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি নিজেও এ সড়কে হাঁটতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন।

রইসউদ্দিন নামে শহরের একজন অটোরিকশাচালক বলেন, পৌরসভার রাস্তাগুলো এত খারাপ অবস্থা হয়েছে, সেগুলো দিয়ে রিকশা চালানোই কঠিন। ঘন ঘন ঝাঁকুনিতে রিকশা নষ্ট হয়।

পঞ্চগড় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান বলেন, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এসব সড়কের সংস্কারকাজ হচ্ছে না। প্রতিটি সড়ক আরসিসি ঢালাই করা গেলে তা আরও টেকসই হবে। তবে পৌরসভার মেয়র ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দের জন্য চাহিদাপত্র দাখিল করেছেন।

পৌরসভার মেয়র জাকিয়া খাতুন বলেন, সড়কগুলো প্রায় ১০ বছর ধরে সংস্কার হয়নি। আশা করছেন, খুব দ্রুত বরাদ্দ পাবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন