লেবু মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবেশী শাহ আলম ও মোমিনের সঙ্গে আমার সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। কয়েক দিন আগে চেয়ারম্যান সামছুল আলম সালিস করে উভয় পক্ষকে ওই জায়গায় স্থাপনা করতে নিষেধ করেন। এরপর শাহ আলম বিরোধপূর্ণ জায়গা বাঁশ দিয়ে ঘেরাও করে রাখেন। আজ সকালে আমার স্ত্রীসহ অন্যরা ওই জায়গায় গিয়ে পুঁতে রাখা বাঁশ সরিয়ে ফেলতে বলেন। এটা নিয়ে নারীদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ওই সময় আমি ভ্যান নিয়ে জয়পুরহাট শহরে ছিলাম। বাড়িতে ফেরার পর গ্রাম পুলিশ এসে আমাকে চেয়ারম্যানের কথা বলে ইউপি কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর মুঠোফোনে চেয়ারম্যানের নির্দেশনা পেয়ে গ্রাম পুলিশ আমাকে ইউপি কার্যালয়ের একটি কক্ষে তালা মেরে আটকে রাখে। খবর পেয়ে আমার স্বজনেরা ইউপি কার্যালয়ে চলে আসেন।’

বেলা ১টার পর তালা খুলে তাঁকে ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলমের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় জানিয়ে লেবু হোসেন বলেন, ‘এ সময় সামছুল আলম তাঁর কক্ষে থাকা লোকজনের সামনে আমাকে চড়থাপ্পড় মারেন। তখন আমার ভাতিজা আবু মুসা এ দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও করছিলেন। এ সময় চেয়ারম্যান উঠে এসে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলেন এবং আবু মুসাকে জুতাপেটা করেন। এরপর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান সামছুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘লেবু হোসেন আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছে। এ কারণে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে তাকে ইউপি কার্যালয়ে আনা হয়েছিল। আমি কার্যালয়ের বাইরে থাকায় লেবুকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। আমি আসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

লেবু হোসেনকে একটু শাসন করেছেন মন্তব্য করে সামছুল আলম বলেন, ‘লেবুর ভাতিজা এসে ভিডিও ধারণ করছিল। এ কারণে লোকজন তাকে সামান্য মারধর করেছে। আমি কাউকে মারধর করিনি। উল্টো লেবুর স্ত্রী আমাকে মারতে উদ্যত হয়েছিলেন।’

এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি জানিয়ে জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম সারোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ভ্যানচালককে বাড়ি থেকে ডেকে এনে দোগাছি ইউপি কার্যালয়ের একটি কক্ষে তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ কল করে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ যাওয়ার আগেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন