নিহত গরু ব্যবসায়ীর নাম হাবিবুর রহমান খান (৬০)। তিনি পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের পূর্ববাগদুলী গ্রামের আবদুল হাকিম খানের ছেলে। অভিযুক্ত দম্পতি সিদ্দিকুর রহমান ও নার্গিস বেগম পার্শ্ববর্তী কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের বড়পাতুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, হাবিবুর রহমান খান মাঝেমধ্যেই মুঠোফোনে নার্গিস বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তাঁকে প্রেমের ও ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রস্তাব দিতেন। একপর্যায়ে নার্গিস বিষয়টি তাঁর স্বামীকে জানান। এরপর স্বামী-স্ত্রী মিলে হাবিবুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত বৃহস্পতিবার নার্গিসের সঙ্গে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করেন হাবিবুর রহমান। এ সময় তাঁকে আসতে বলেন নার্গিস।

হাবিবুর রহমান এসে ঘরে ঢোকার পর প্রথমে তাঁর মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন নার্গিস। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর স্বামী–স্ত্রী দা ও কুড়াল দিয়ে আঘাত করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে লাশটি পলিথিনে মুড়িয়ে গোয়ালঘরে গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেন।

নিহত ব্যক্তির পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় তাঁর কাছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিল। প্রথমে তিনি বড়পাতুরিয়া গ্রামের মোকছেদ আলী মণ্ডলের বাড়িতে যান। সেখান থেকে সকাল নয়টার দিকে বের হন। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।

বাবাকে কোথায় খুঁজে না পেয়ে হাবিবুর রহমানের ছেলে চাঁদ খান বৃহস্পতিবার বিকেলে কালুখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর তদন্ত করতে গিয়ে নার্গিস বেগমের মুঠোফোনের কললিস্ট দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। এই দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁরা হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। এরপর শনিবার বিকেলে সাড়ে চারটার দিকে হাবিবুর রহমানের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

জানতে চাইলে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সিদ্দিকুর ও তাঁর স্ত্রী নার্গিসকে গ্রেপ্তার করেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন