শুধু সাব্বির নয়, এমন অবস্থা জেলার সব শিক্ষার্থীর। লোডশেডিংয়ের কারণে রাতের বেলা গরমে তাঁরা ঘুমাতে পারছেন না। সকালে বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষার্থীদের।

পঞ্চসার এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগমের দুই সন্তান দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তিনি বলেন, ‘দিনের বেলা বিদ্যুৎ থাকে না। বাচ্চাদের নিয়ে অনেক কষ্ট আছি। হাত পাখায় কতক্ষণ বাতাস করা যায়! বাচ্চারা সন্ধ্যায় পড়াশোনা করতে পারে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে রাতেও ঘুমাতে পারে না। এ জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যেতে পারে না। এভাবে বাচ্চাদের পড়াশোনা নষ্ট হচ্ছে। এটা আর সহ্য করা যাচ্ছে না।’

প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ মানুষগুলো আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। রাতে চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ চলে যায়। রাতে যে একটু ঘুমাব, তাও পারছি না। রাত জেগে থাকা ছেলেটি পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না
নুরজাহান বেগম, বাসিন্দা, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা

সদর উপজেলার দক্ষিণ চরমসুরা এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, তাঁর ঘরে অসুস্থ স্বামী, শাশুড়ি ও স্কুলপড়ুয়া পঞ্চম শ্রেণির এক ছেলে আছে। প্রতিদিন দিনের বেলা পাঁচ থেকে ছয়বার বিদ্যুৎ চলে যায়। এক-একবার চলে গেলে এক থেকে দেড় ঘণ্টার আগে আসে না। তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ মানুষগুলো আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। রাতে চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ চলে যায়। রাতে যে একটু ঘুমাব, তাও পারছি না। রাত জেগে থাকা ছেলেটি পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।’

প্রচণ্ড গরমের কারণে লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে আছেন দিনমজুর শ্রেণির মানুষেরা। রাজমিস্ত্রি, রিকশা, ভ্যানচালক এবং বিভিন্ন পণ্যের ফেরিওয়ালাসহ অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তির সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। তাঁরা বলেন, লোডশেডিং শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গায় ছড়িয়ে গেছে। যাঁদের টাকা আছে, তাঁদের ঘরে চার্জার ফ্যান, নয়তো আইপিএস আছে। বিদ্যুৎ গেলে তাঁরা সেটি দিয়ে কোনোরকমে ঘুমাতে পারেন। তবে গরিবের অবস্থা নাজেহাল। গরমের জন্য না ঘুমিয়েই রাত কাটিয়ে দিতে হয়। এ জন্য সকালে কাজে বের হওয়া যায় না। ঘুম ঘুম চোখে ও দুর্বল শরীরে কাজ করতে হয়।

মুন্সিগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক এ এইচ এম মোবারক উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, গরম বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদার বাড়ে। তবে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের প্রাপ্তি কম। এ কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই ঘন ঘন লোডশেডিং করাতে হচ্ছে তাদের। শহরে জেলখানা, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে। এতে গ্রামের তুলনায় শহরে কিছুটা লোডশেডিং কম করাতে হচ্ছে। ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সব পেশার মানুষের যেমন দুর্ভোগ বেড়েছে, আমরাও কম ভোগান্তিতে নেই। ঘনঘন লোডশেডিং করাতে গিয়ে আমাদের যন্ত্রপাতিও নষ্ট হচ্ছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন