রায়পুরায় ‘মব’ সৃষ্টি করে অধ্যক্ষকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেওয়া হলো প্রতিষ্ঠান থেকে

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মব সৃষ্টি করে সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষকে হেনস্তার পর টেনে-হিঁচড়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়। রোববার বেলা ১১টার দিকে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান চলাকালে এ ঘটনা ঘটেছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ‘মব’ সৃষ্টি করে সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেনকে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের কর্মী-সমর্থকেরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এ ঘটনার ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, কয়েকজন নূর সাখাওয়াত হোসেনের কোমরের অংশের প্যান্টে ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাঁদের ‘না করছিলাম না’, ‘ধর’ বলতে শোনা যায়।

অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সকালে কলেজে গিয়ে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় আমজাদ, জলিল, আতিক, জুয়েলসহ আরও চার–পাঁচজন বহিরাগত অতর্কিতভাবে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাঁরা আমাকে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদলের কাছে যেতে বলেন। আমি যেতে অস্বীকার করলে টেনেহিঁচড়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে প্রতিষ্ঠানের বাইরে নিয়ে যান তাঁরা। এরই মধ্যে আমি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করে রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ২২ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিকে তিলে তিলে আমি সাজিয়েছি। ৫ আগস্টের পর আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদলের নেতৃত্বে কিছু লোক আমার কাছে চাঁদা দাবি করেন। আমি তাঁদের চাওয়া সেই অর্থ দিতে অস্বীকার করায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন।’

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন নূর সাখাওয়াত হোসেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পরপর দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে তাঁকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আদালতে এসব অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরও স্থানীয় কিছু ব্যক্তির চাপে প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি যোগদান করতে পারছিলেন না। আজ তিনি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষকে স্বপদে বহালের দাবিতে প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁরা মাঠে কর্মসূচি পালন করতে গেলে ওই হামলাকারীরা অংশগ্রহণকারীদের গালাগালি করে বের করে দেয় এবং কয়েকজন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী আমিরগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিদ্যালয় ফটকের বাইরে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ওই মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ ছিল, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক ও তাঁর সমর্থকেরা মানববন্ধনে হামলা চালান। অধ্যক্ষকে হেনস্তার ঘটনায়ও বাদলের নাম উল্লেখ করেছেন শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় জানতে চাইলে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদল বলেন, ‘আমি আজকের এই ঘটনায় কিছুই জানি না। আমি ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। এলাকার কেউ গিয়েছে কি না, জানি না।’

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।