রিমা আক্তার নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সজীব মিয়ার স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিয়ারখালী গ্রামে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সজীব মিয়া ঢাকার একটি জুতার কারাখানায় কাজ করতেন। রিমা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বাবার বাড়ি মঠবাড়িয়ায় চলে যান। এক মাস আগে সজীব চাকরি ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। গত শনিবার বিকেলে রিমার প্রসবব্যথা শুরু হলে মঠবাড়িয়া শহরের ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক জানান, তাঁর অস্ত্রোপচার করতে হবে। এতে ১৪ হাজার টাকা লাগবে বলে রিমার পরিবারকে জানান হাসপাতালের ব্যবস্থাপক।

রিমার মা তাসলিমা বেগম পরিচিত এক নারীর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ধার নিয়ে হাসপাতালে জমা দেন। ওই রাতে অস্ত্রোপচারে রিমার মেয়েসন্তান হয়। এরপর বকেয়া টাকা শোধ করতে না পারায় নবজাতক ও মা হাসপাতাল ছাড়তে পারছিলেন না। এ সময় এক নারী হাসপাতালের বিল পরিশোধ করার শর্তে নবজাতককে তাঁর এক নিঃসন্তান আত্মীয়কে দত্তক দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে রিমা এতে রাজি হননি।

শিশুটির মা রিমা আক্তার মুঠোফোনে বলেন, ‘এক নিঃসন্তান দম্পতি চিকিৎসার ব্যয় পরিশোধ করে আমার সন্তানকে দত্তক নিতে চেয়েছিলেন। জীবনে প্রথম মা হলাম। প্রথম সন্তান অন্যকে দিতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই বাচ্চাকে দিইনি। আমাদের প্রতিবেশী শিমুল ভাইয়ের বিকাশ নম্বরে ঢাকা থেকে দুজন ৯ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।’ ওই টাকা ক্লিনিকে দিয়ে তাঁরা বাড়ি ফিরেছেন বলে তিনি জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন