দিনাজপুর সদর উপজেলায় ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি স্কুলছাত্র মনিরুল ইসলামের (১৬) মৃত্যুর পাঁচ দিন পর তার মরদেহ বিজিবি সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার বিকেল পাঁচটায় ভারতীয় সীমান্তের তেলিয়াপাড়া বানপুকুর পাড়ে ভারতীয় ৩১৪/৭এস পিলারসংলগ্ন এলাকায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য ও কোতোয়ালি থানা–পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এর আগে বেলা ১১টায় একই স্থানে বিষয়টি নিয়ে উভয় দেশের বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিবি খানপুর ক্যাম্পের কমান্ডার আনিসুর রহমান, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীরুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মাওলা, কমলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক, নিহত মনিরুলের বাবা জাহাঙ্গীর আলম ও স্বজনেরা।
পরে বিজিবি সদস্যদের কাছ থেকে মনিরুলের স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণ করে একটি পিকআপ ভ্যানে নিজ বাসা ভিতরপাড়া এলাকায় নিয়ে আসেন। রাতেই মনিরুলের দাফন সম্পন্ন করার কথা। মনিরুলের মরদেহ দেখতে দাইনুর সীমান্ত থেকে ভিতর পাড়া এলাকায় মানুষের ঢল নামে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
গত বুধবার বিকেলে মাকে রঙের কাজ করতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় মনিরুল। রাত সাড়ে আটটার দিকে ফোনে মায়ের সঙ্গে মনিরুলের সবশেষ কথা হয়। তখন সে জানায়, রঙের কাজ শেষ হয়নি। আসতে দেরি হবে। এরপর রাত ১০টায় আবারও ফোন করা হলে মনিরুলের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে মনিরুল আর বাড়িতে ফেরেনি। বৃহস্পতিবার সকালে মনিরুলের পরিবার জানতে পারে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একই ইউনিয়নের দাইনুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ভারত সীমান্তের ৩১৪ সিএস পিলারের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে তেলিয়াপাড়া এলাকায় ভারতীয় আবাদি জমিতে পড়ে ছিল মরদেহটি।
মনিরুল উপজেলার কমলপুর ইউনিয়নের খানপুর ভিতরপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। সে খানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি রংমিস্ত্রির জোগালির কাজ করত মনিরুল। চার ভাইবোনের মধ্যে সে ছিল তৃতীয়।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মাওলা বলেন, উভয় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে নিহত মনিরুলের মরদেহ তার বাবা জাহাঙ্গীর আলম ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিএসএফ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করেছে। স্বজনেরা লাশ দাফনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।