এক সপ্তাহ ধরে মেঘলা আকাশ, সূর্যের দেখা নেই, কেন এমন হচ্ছে

বেলা আড়াইটায়ও এমন মেঘলা। সূর্যের দেখা নেই। চট্টগ্রাম নগরের গত বুধবারের চিত্রছবি: সৌরভ দাশ

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা। ঘড়ির কাঁটা বলছে দিন বেশ খানিকটা গড়িয়েছে; কিন্তু আকাশ দেখে তা বোঝার উপায় নেই। ধূসর মেঘের চাদরে ঢাকা চট্টগ্রাম শহর। মাঝেমধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর আলো-আঁধারির আবহে চট্টগ্রামজুড়ে যেন বর্ষার স্থির দিন।

এক সপ্তাহ ধরে নগরের চিত্র প্রায় একই রকম। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। কখনো মেঘের ফাঁকে কয়েক মিনিটের জন্য আলো উঁকি দিচ্ছে, আবার মুহূর্তেই মিলিয়ে যাচ্ছে। কোথাও হালকা বৃষ্টি, কোথাও শুধু স্যাঁতসেঁতে বাতাস। ফলে রোদের তাপ কমলেও ভ্যাপসা অস্বস্তি থেকে মুক্তি মিলছে না।

সূর্যের দেখা মিলছে কম। গত বুধবারের চিত্র
ছবি: প্রথম আলো

যদিও কয়েক সপ্তাহ আগের প্রচণ্ড গরমের তুলনায় এখন দিনের তাপমাত্রা অনেকটাই সহনীয়। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখাচ্ছে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আমবাগান আবহাওয়া অফিস বলছে, আগের দিন বুধবার দুপুর ১২টা থেকে গতকাল পর্যন্ত তারা বৃষ্টি রেকর্ড করেছে ৫৭ মিলিমিটার।

তবে এই দীর্ঘ মেঘলা আকাশ কি অস্বাভাবিক? আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বলছেন, মোটেও নয়। এখন বর্ষা মৌসুম। এ সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করে। উষ্ণ ও আর্দ্র এই বায়ু ওপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হলে বিস্তৃত মেঘমালার সৃষ্টি হয়। সেই মেঘের কারণেই দিনের দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো আড়াল হয়ে থাকে। কোনো দিন মেঘের স্তর পাতলা হলে সূর্যের দেখা মেলে, আবার কোনো দিন এতটাই ঘন থাকে যে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রোদ দেখা যায় না।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একদিকে বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে পাহাড়ি এলাকা। সাগর থেকে আসা আর্দ্র বায়ু পাহাড়ের ঢালে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আরও দ্রুত ওপরে উঠে মেঘ তৈরি করে। ফলে দেশের এখানে দীর্ঘ সময় মেঘলা আকাশ দেখা যায়।

রোদ না থাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমে। কারণ, মেঘ পৃথিবীর পৃষ্ঠে সরাসরি সৌর বিকিরণ পৌঁছাতে বাধা দেয়; কিন্তু একই সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। মানুষের শরীর থেকে ঘাম সহজে বাষ্পীভূত হতে পারে না। তাই থার্মোমিটারে তাপমাত্রা কম দেখালেও অনেকের কাছে আবহাওয়া অস্বস্তিকর মনে হয়।

এক সপ্তাহ ধরে এমন মেঘলা আকাশ
ছবি: প্রথম আলো

বর্ষার এই মেঘ শুধু নগরের ছন্দই বদলায় না, প্রকৃতির জলচক্রেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদী, খাল, জলাধার, কৃষিজমি ও বনাঞ্চল টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত বৃষ্টি ও মেঘের এই ধারাবাহিকতা। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বর্ষার সময়ে কয়েক দিন টানা মেঘলা আকাশ, তাই উদ্বেগের বিষয় নয়; বরং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

তবু অনেকের প্রশ্ন, রোদহীন এই দিনগুলো আর কত দিন চলবে? মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলছেন, বর্ষায় এমন লুকোচুরি চলতেই থাকবে। কোনো দিন সকাল থেকে আকাশ পরিষ্কার হবে, আবার বিকেলে জমবে কালো মেঘ। কোনো দিন সূর্য উঠবে দেরিতে, আবার কোনো দিন মেঘের আড়াল ভেদ করেই উঠতে পারবে না।