যশোরে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির ২ যোদ্ধা

যশোর–৩ আসনে সিপিবির রাশেদ খান (বাঁয়ে) ও যশোর–২ আসনে বাসদের প্রার্থী ইমরান খানছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরে দুটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির দুই যোদ্ধা। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে যশোর–৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাশেদ খান কাস্তে প্রতীকে ও যশোর–২ (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ইমরান খান মই প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন।

রাশেদ খান ও ইমরান খান দুজনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বায়ান্ন থেকে চব্বিশ পর্যন্ত গণমানুষের আন্দোলন–সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। তাঁরা জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

দুটি আসনে এই দুই তরুণ প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুজন করে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আছেন। সেই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাঁরা নির্বাচনে সমতার লড়াইয়ে কতটা ফিরতে পারবেন, সেটাই প্রশ্ন। তাঁদের ভাষ্য, শোষিত–বঞ্চিত কৃষক, শ্রমজীবী, নারী ও তরুণ সমাজের অধিকার আদায়ের অন্যতম লড়াই নির্বাচন। এই লড়াই অসম হলেও সাধারণ মানুষের শক্তিকে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

যশোর–৩ আসনে ছয়টি রাজনৈতিক দলের ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুল কাদেরের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সেখানে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে রাশেদ খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই আহ্বায়ক বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন যশোর জেলা শাখার সভাপতি। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা রাশেদ খান পরিবর্তনের লক্ষ্যে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।

রাশেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘শোষিত–বঞ্চিত কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ ও ছাত্রসমাজের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আমাদের লড়াই–সংগ্রাম চলছে। নির্বাচন অন্যতম লড়াই হলেও প্রধান লড়াই নয়। প্রধান লড়াই হলো রাজপথে থেকে গণমানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলা। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। সে কাজটি আমরা জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে করেছি। আগামী দিনগুলোয়ও মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে যাচ্ছি। আশা করি, জনগণ সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে।’

অন্যদিকে যশোর–২ আসনে ছয়টি দলের সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। সেখানে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ইমরান খান বাসদের প্রার্থী হিসেবে মই প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর ২০২১ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন ইমরান খান। বর্তমানে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি বলেন, ‘চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পরেও একটি জনগোষ্ঠী মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর একধরনের অসম্মান ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে আমরা লড়তে চাই। মুক্তিযুদ্ধের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সংবিধানের চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে কাজ করতে চাই।’

ইমরান খান বলেন, নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও নারী নির্যাতনকারীদের ভোট তাঁদের দরকার নেই। তাঁরা পরাজিত হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট। প্রধান দলগুলোর অর্থনৈতিক, সাংগঠনিক ও পেশিশক্তির বিপরীতে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে সমতা আনা প্রায় অসম্ভব। সবকিছু জেনেবুঝে তাঁরা নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়া তাঁদের দৃঢ় অঙ্গীকার। আশা করছেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের সঙ্গেই থাকবে।