রাজশাহীতে জামায়াত-বিএনপি মারামারির সময় মুয়াজ্জিনের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা

রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াতের মারামারিতে মারা যাওয়া মুয়াজ্জিন জানাজার নামাজ। রোববার বিকেলে মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামেছবি: প্রথম আলো

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় একটি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে অপসারণের বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মারামারিতে মুয়াজ্জিনের নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ৪০–৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদীর দাবি, আসামিরা বিএনপির নেতা-কর্মী।

মৃত ব্যক্তির নাম আলাউদ্দিন (৬৫)। তিনি উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন।

আরও পড়ুন

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাঁকোয়া বাকশৈল কামিল মাদ্রাসা মসজিদের দীর্ঘদিনের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে অপসারণের চেষ্টা নিয়ে গ্রামে বিরোধ চলছিল। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ তাঁদের রাখার পক্ষে থাকলেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন এর বিরোধিতা করেন। বিষয়টি নিয়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় সাঁকোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বৈঠক বসে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বৈঠকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেখানে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় মুয়াজ্জিন আলাউদ্দিনের ছোট ছেলে এমরান আলীকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁর ভাই মাসুদ রানাকেও আহত করা হয়। পরে আলাউদ্দিন ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন তাঁর বুকে আঘাত করেন এবং তাঁর ওপরে উঠে লাফালাফি করেন। আহত অবস্থায় তাঁকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত আলাউদ্দিনের ছেলে এমরান আলী বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় মো. রাইসুল ইসলাম রাসেল, মো. ওমর ফারুক, মো. আব্দুল করিম, মো. ইসমাইল হোসেন হাবু, মো. মাহাবুর রহমান, মো. কামরুজ্জামান হেনা ও মো. ওয়াহেদ হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে রোববার বিকেলে সাঁকোয়া মাদ্রাসা মাঠে আলাউদ্দিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় রাজশাহী-১ (তানোর–গোদাগাড়ী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এবং রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল বারীসহ জেলা, উপজেলাসহ বিভিন্ন স্তরের জামায়াতের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান।

মুজিবুর রহমান বলেন, যাঁরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন, যে দলেরই হোক, তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অপর সংসদ সদস্য আবদুল বারী বলেন, যাঁরা আলাউদ্দিনকে হত্যা করেছেন, তাঁরা সন্ত্রাসী। তাঁদের কোনো দল থাকতে পারে না। প্রশাসনকে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। যদি তা না করা হয়, জনগণ রাস্তায় নেমে আসবেন।