জালে চলছে ইলিশের আকাল

প্রত্যাশিত ইলিশ ধরা না পড়ায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার চার হাজার জেলে। ঈদ ঘনিয়ে এলেও এসব পরিবারে নেই আনন্দ।

জেলেপাড়ায় ঈদের উচ্ছ্বাস নেই। ট্রলারে এখানে-সেখানে অলস ও মলিন সময় কাটাচ্ছেন জেলেরা। গত শুক্রবার চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীতে প্রায় দেড় মাস ধরে জেলেদের জালে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। কিছু ইলিশ ধরা পড়লেও সেগুলো বিক্রি করে খরচই ওঠে না। এতে করে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার চার হাজার জেলে। ঈদ আনন্দ নেই পরিবারগুলোয়। মেঘনায় পানির চাপ কম থাকায় ইলিশের এ আকাল চলছে বলে জানিয়েছেন একাধিক মৎস্য কর্মকর্তা।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৮ হাজার ২২২। এর মধ্যে ৪ হাজার মুসলিম। অধিকাংশ মুসলমান জেলের বাড়ি বাহেরচর, চরউমেদ, চরওয়েস্টার, বোরোচর, আমিরাবাদ, কালিরবাজার, ফরাজীকান্দি, নন্দলালপুর, জহিরাবাদ, শিকিরচর, ছটাকি, এখলাশপুর, মোহনপুর ও ষাটনল এলাকায়। এসব এলাকার জেলেপাড়ায় তাঁদের বসবাস।

গত শুক্রবার সকালে উপজেলার আমিরাবাদ, ষাটনল, এখলাশপুর ও ছটাকি এলাকার জেলেপাড়ায় দেখা যায়, জেলে পরিবারে ঈদের আমেজ নেই। মলিনমুখে এখানে-ওখানে সময় কাটাচ্ছেন জেলেরা। কেউ কেউ মাছ ধরার ট্রলারে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। জাল মেরামতও করছেন কেউ কেউ। ঈদ ঘনিয়ে এলেও এসব পরিবারে নেই আনন্দ। ঘরে জ্বলছে না চুলা। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

ষাটনল এলাকার জেলে আনোয়ার ও মো. ফজলুল (হজলা) বলেন, দেড় মাস ধরে প্রায় প্রতিদিন মেঘনায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে জাল ফেলছেন। কিন্তু জালে তেমন ইলিশ উঠছে না। সারা রাত জাল পেতে একেকজন গড়ে ৮ থেকে ১০টি করে ইলিশ পাচ্ছেন। এগুলো বিক্রি করে যে টাকা পান, তা দিয়ে ট্রলারের ডিজেল খরচই মেটে না। এর ওপর দাদনের টাকাও দিতে হয়।

আমিরাবাদ এলাকার জেলে কামাল হোসেন বলেন, ট্রলার নিয়ে প্রতি রাতে মেঘনায় ইলিশ ধরতে গেলে ট্রলারপ্রতি ডিজেল খরচ হয় প্রায় ২৫ লিটার। ২৫ লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতি রাতে যে ইলিশ পাচ্ছেন, সেগুলো বিক্রি করে পান ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। ওই টাকা থেকে দাদন ব্যবসায়ীদেরও দিতে হয়। দিতে হয় কিছু ইলিশও। সবকিছু মিলে তাঁর কিছুই থাকে না। কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘সামনে ঈদ আইতাছে। হাতে টেয়াপইসা নাই। ঈদের কাপড়চোপর কিনুমতো দূরের কথা, ঈদের বাজারই করতে পারতাছি না। তিনবেলা পেডে খাওনই জোডে না। ঈদের বাজার করুম ক্যামনে। এবার আমাগো ঈদের আনন্দই মাটি।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস ও সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, মেঘনায় পানির চাপ কম থাকায় এখনো তেমন হারে ইলিশ ধরা পড়ছে না। এর প্রভাব পড়েছে জেলেদের জীবিকায়। জেলে ও ইলিশ বিক্রেতারা এ জন্য বিপাকে রয়েছেন। তবে আর কিছু দিন পর মেঘনায় প্রত্যাশিত ইলিশ ধরা পড়বে বলে তাঁরা আশাবাদী।