সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলায় আরিফুল–বাবরসহ আটজনকে খালাস, একজনের মৃত্যুদণ্ড
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ–৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ জি কে গউছ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আটজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মামলায় সৈয়দ নাইম আহমদ ওরফে নিমু (৪৫) নামের একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রায় দিয়েছেন। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই একজনকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া নাইম আহমদের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া লম্বাহাটি গ্রামে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।
খালাস পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন মুহিব উল্লা ওরফে মফিজুর রহমান (মফিজ), মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল (মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজা), আবদুল মাজেদ বাট (ইউসুফ বাট), নাজিউর রহমান ওরফে নাজমুল হক নাজু এবং মাওলানা তাজ উদ্দিন। তাঁদের মধ্যে তাজ উদ্দিন পলাতক আছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর নির্বাচনী এলাকার একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন। আহত হন অন্তত ২৯ জন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি ও হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা শেখ আবদুস সালাম ২০২১ সালের নভেম্বরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে তাঁকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
আদালত দুটি মামলাতেই আটজনকে খালাস ও নাইম আহমদকে দোষী সাব্যস্ত করেন। হত্যা মামলায় নাইমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় বিস্ফোরক মামলায় তাঁকে আলাদা কোনো সাজা দেওয়া হয়নি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার নয়জন আসামির মধ্যে পাঁচজন কারাগারে, তিনজন জামিনে ও একজন পলাতক। রায় ঘোষণার সময় পলাতক আসামি ছাড়া অন্য সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছ ও লুৎফুজ্জামান বাবর। তাঁরা দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছিল। মিথ্যা মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তাঁরা রায়ে সন্তুষ্ট।
অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া নাইম আহমদের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা রায়ে সন্তুষ্ট নন। এই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।