সকাল সাড়ে ১০টায় চাষাঢ়ায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী উৎসব পরিবহনের বাস কাউন্টারের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। ওই লাইনে দাঁড়ানো যাত্রী কামাল হোসেন বলেন, আধা ঘণ্টার বেশি গাড়ির জন্য অপেক্ষা করলেও গাড়ি পাননি। অন্য সময়ের তুলনায় সড়কে গাড়ি কম দেখা যাচ্ছে। অপর যাত্রী শিখা রানী বলেন, সড়কে গাড়ির সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তেলের দাম বাড়ানোয় পরিবহনের মালিকেরা ইচ্ছামতো বাসভাড়া বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। এতে ভোগান্তিতে পড়বে সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে সড়কে বাসের সংখ্যা কম দেখা গেলেও পরিবহন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, বাসের সংখ্যা কমাননি তাঁরা। বরং নিশ্চিত লোকসানেও বাস চালু রাখা হয়েছে। উৎসব পরিবহনের সুপারভাইজার মো. আদর প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের ৪০টা গাড়ির সব কটি গাড়িই চলছে। গাড়ি কম ও যাত্রীদের অপেক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, যানজটের কারণে গাড়ি আসতে দেরি হচ্ছে।

সিটি বন্ধন পরিবহনের সুপারভাইজার আরিফ হোসেন বলেন, ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আগের ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তাঁদের ৫২টা গাড়ির সব কটি চলছে।

নারায়ণগঞ্জ-আব্দুল্লাহপুর রোডে চলাচলকারী মৌমিতা পরিবহনে সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই যাত্রীপ্রতি ভাড়া বাড়িয়েছে পাঁচ টাকা। এই পরিবহনের চালকের সহকারী সুজন মিয়া জানান, লোকসান দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। যাত্রীদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা হারে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন তাঁরা।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসি বাস চলাচল করত ১৫টি। আজ আরও তিনটি বাস বাড়ানো হয়েছে। পরিবহনটির সুপারভাইজার মো. শাকিল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের বাসগুলোয় ভাড়া বাড়ানো হয়নি। তবে সড়কে অন্য পরিবহন কম থাকায় তাঁদের বাসে যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে।

এদিকে চাষাড়া-শিমরাইল সড়কে বন্ধু পরিবহনকে যাত্রীদের কাছ থেকে আগের ভাড়া নিতে দেখা গেছে। বাসটির মালিক জসিম উদ্দিন জানান, লোকসান দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন তাঁরা। না হলে রুট পারমিট বাতিল হয়ে যাবে। এই ভয়ে অনেকে গাড়ি চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে উৎসব পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজল মৃধা প্রথম আলো বলেন, ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। লোকসান দিয়ে তো গাড়ি চালানো যাবে না। আজকে সিদ্ধান্ত হলে কাল রোববার থেকে তাঁরা বাড়তি ভাড়ায় গাড়ি চালাবেন। ভাড়া ৪৫ থেকে ৬০ টাকা করা হতে পারে বলে জানান তিনি।

default-image

মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিংয়ে ভাড়া বেড়েছে, যাত্রী কম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ভাড়া বেড়েছে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিংয়ে। আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে ৩০০ টাকায় ঢাকা গেলেও এখন ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা করা হয়েছে। ভাড়া বাড়ানোয় মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিংয়ে যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন চালকেরা।

উবারচালক সৈকত ইসলাম জানান, রাইড শেয়ারিং করে তাঁর মা–বাবাসহ তাঁদের ছয়জনের সংসার চলে। তেলের দাম বাড়ানোর কারণে তাঁরা বাড়তি ভাড়া চাচ্ছেন, যাত্রীরা বাড়তি দিতে রাজি হচ্ছেন না। সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোনো ট্রিপ মারতে পারেননি তিনি। প্রতিদিন রাইড শেয়ারিং করে খরচ বাদ দিয়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পেতেন বলে জানান সৈকত।

অপর উবারচালক সাকিবুল হাসান বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর কারণে যাত্রী কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাত্রীরা বাড়তি ভাড়ায় রাইড শেয়ারিংয়ে না গিয়ে খরচ বাঁচাতে বাসে যাতায়াত করতে আগ্রহী হবেন।

নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আজ এমনিতে বন্ধ থাকায় গাড়ি কম চলাচল করে। সড়কে একটু গণপরিবহন কম চলাচল করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন