বাতেনের বন্ধু কালু হোসেনের ভাষ্য, ইনসাফের সঙ্গে স্থানীয় আরেক তরুণ মো. ইমন হোসেনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁরা ফেনসিডিলের ব্যবসা করতেন। সম্প্রতি মাদক বিক্রির টাকা নিয়ে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বিষয়টি জানতে পেরে গতকাল সন্ধ্যায় ইনসাফ ও ইমনের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দেন বাতেন। পরে রাত আটটায় ইমন তাঁর দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মাঠপাড়া এলাকায় আসেন। ওই সময় বাতেন মাঠপাড়া এলাকায় কয়েকজনকে নিয়ে চা পান করছিলেন। এ সময় ইমন ও তাঁর বন্ধুরা মোটরসাইকেল থেকে নেমে বাতেনকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ছুরি বের করে বাতেনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় বাতেনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দিনাজপুরের এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তবে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ইমনের কাছে ইনসাফের ১৩ হাজার টাকা পাওনা ছিল। পাওনা টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যায় ইনসাফ ও ইমনের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দেন বাতেন। তবে ইমনের বিষয়টি পছন্দ না হওয়ায় তিনি গতকাল রাত আটটার দিকে মাঠপাড়া এলাকায় গিয়ে বাতেনের ওপর হামলা চালান। এ সময় ইমন ও তাঁর সহযোগীরা বাতেনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ বলেন, বাতেনের বাঁ ঊরু ও বুকের বাঁ পাশে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় গতকাল রাতেই নিহত ব্যক্তির ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাতেনের ভাইয়ের সঙ্গে অভিযুক্ত ইমনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন