সশস্ত্র পাহারায় তোলা চকরিয়ার সেই বালুমহালে অভিযান, শ্যালো মেশিন ধ্বংস

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাংয়ের ইছাছড়ি গ্রামে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালান চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার ও সহকারী কমিশনার রূপায়ন দেব। গতকাল বেলা দেড়টার দিকেছবি: উপজেলা প্রশাসনের সৌজন্যে

কক্সবাজারের চকরিয়ার ইছাছড়ি ছড়ার সেই বালুমহালে অবশেষে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার বেলা একটার দিকে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় বালু তোলার কাজে ব্যবহৃত একটি শ্যালো মেশিন ধ্বংস করা হয়।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেবও উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে চকরিয়া থানা-পুলিশও অংশ নিয়েছে। অভিযানে পরিবেশের ক্ষতি করে, ফসলি জমি কেটে ও ছড়ার পাড় ভেঙে বালু তোলার প্রমাণ পেয়েছে প্রশাসন। তবে এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি।

এর আগে গত মঙ্গলবার প্রথম আলো অনলাইনে ‘চকরিয়ায় সশস্ত্র পাহারায় ছড়া থেকে তোলা হচ্ছে বালু’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উপজেলা প্রশাসন জানায়, এ প্রতিবেদন নজরে আসার পর অভিযান চালানো হয়েছে।

ইছাছড়ি গ্রামের অবস্থান উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাংয়ের পেট্রলপাম্প দিয়ে পূর্ব দিকে কাঁচা সড়ক হয়ে ৫০০ মিটার গেলেই এ গ্রামের দেখা মেলে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ছড়ার তলদেশ, দুই তীর ও বালুকাময় ফসলি জমিতে বসানো হয়েছে অন্তত সাতটি শ্যালো মেশিন ও ড্রেজার। সশস্ত্র পাহারায় ২৪ ঘণ্টায় চলছে বালু তোলার কাজ। এ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক। বালু তোলার কারণে আশপাশের ফসলি জমি, ছড়ার তলদেশ ও দুই পাড় ভেঙে পড়েছে। আগে এ ছড়া ৬০ ফুট প্রস্থের ছিল। তবে বর্তমানে এটি প্রায় ২০০ ফুট আকার ধারণ করেছে। এ ছাড়া গভীরতাও ৫০ ফুট ছাড়িয়েছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যাঁরা বালু তুলছেন, তাঁরা স্থানীয়ভাবে খুবই প্রভাবশালী। এই চক্রে চিহ্নিত অপরাধী থাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করেন না। আবার কেউ ভিডিও কিংবা ছবি ধারণ করতে গেলেও হামলার শিকার হন। সর্বশেষ গত ২২ ফেব্রুয়ারি চকরিয়ায় কর্মরত তিন সংবাদকর্মী বালু উত্তোলনের চিত্র ধারণ করতে গেলে হামলার শিকার হন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথম আলোয় সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার রাতে ড্রেজার ও শ্যালো মেশিনগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। এ ছাড়া ওই রাতে ২০-২৫টি ট্রাক দিয়ে উত্তোলন করে রাখা বালুও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

অভিযান শেষে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম আলোয় প্রকাশিত সংবাদটি নজরে এসেছে। দুর্বৃত্তরা ইছাছড়ি গ্রামে পরিবেশের অনেক ক্ষতি করেছে। বালুমহালের ইজারাদার তাঁর চিহ্নিত এলাকার বাইরেও বালু উত্তোলন করেছেন। শর্ত অনুযায়ী, শ্যালো মেশিন ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা যায় না। এখানে বেশ কয়েকটি শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

শাহীন দেলোয়ার বলেন, বালু উত্তোলনকারীদের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ইজারাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মহাল যাতে আর ইজারা না দেওয়া হয়, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।