হাতিয়ায় দুই জলদস্যু বাহিনীর গোলাগুলিতে নিহত ৩

লাশ
প্রতীকী ছবি

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনার ঘাসিয়ারচর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে জলদস্যু ফোকরা ও ফখরুল বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দুই পক্ষের গোলাগুলিতে তিন দস্যু মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার ভোররাত তিনটা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. কবির (৩৫), মো. শাহরাজ (৩৬) ও নবীর উদ্দিন ওরফে নূর নবী (৩৬)। নিহত ব্যক্তিরা ফখরুল বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন লাশ তিনটি উদ্ধার করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাশগুলো উদ্ধার করে চেয়ারম্যানঘাটে নিয়ে আসা হয়। লাশগুলো শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

কোস্টগার্ডের হাতিয়া স্টেশনের মিডিয়া কর্মকর্তা শফিউল কিঞ্জল বলেন, কোস্টগার্ডের তিনটি দল যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় অস্ত্রসহ পাঁচজন জলদস্যুকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে তিনটি একনলা বন্দুক, দুটি গুলিসহ বেশ কিছু ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ও রড উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক জলদস্যুরা হলেন সুবর্ণচরের আটকপালিয়ার মো. জিন্টু (৩৬), লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডারের চরের আবদুল্যাহর মো. হারুন (৩৭), রামগতির চরগাজীর মো. লিটন (৩৫), কমলনগরের চর কালিনীর মো. মোশারফ (৩৬) ও আলেকজান্ডারের মো. আজিম ব্যাপারী (২৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঘাসিয়ারচরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে খোকন ডাকাতের বাহিনী। কিছুদিন আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন খোকন। তখন চরের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আরেক জলদস্যু ফখরুল ইসলামের হাতে। সম্প্রতি খোকন জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় চরের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে ফখরুলের লোকজনের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। ওই বিরোধের জেরে গতকাল দিবাগত রাত তিনটার দিকে দুই পক্ষ গোলাগুলি শুরু করে। এতে ফখরুল বাহিনীর তিন সদস্য খোকন বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। আরও কয়েকজন আহত হন। তাঁদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা শফিউল কিঞ্জল বলেন, ঘাসিয়ারচর একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা। বৃহস্পতিবার ভোররাত তিনটার দিকে স্থানীয় দুটি জলদস্যু বাহিনী আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে গোলাগুলি শুরু করে। খবর পেয়ে তিনটি আলাদা দল নিয়ে দ্রুতগতির স্পিডবোটে করে তাঁরা ঘাসিয়ারচর এলাকায় অভিযানে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় খোকন বাহিনীর পাঁচজন সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।