কুমিল্লায় একই ঘরের দুই কক্ষ থেকে মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
কুমিল্লার চান্দিনায় একই ঘরের দুই কক্ষ থেকে মা ও সাত বছর বয়সী মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়নের সাঁকোজ গ্রাম থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ধারণা, সাত বছরের মেয়েকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত দুজন হলেন সাঁকোজ গ্রামের মোজাহিদুল ইসলাম মজুমদারের স্ত্রী ফারহানা আক্তার (৩৩) ও তাঁর মেয়ে ফাছিহা আক্তার (৭)। ওই নারীর আরও একটি মেয়ে ও ছেলে রয়েছে। মোজাহিদুল ইসলাম ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় চাকরি করেন। একমাত্র ছেলে জুবায়ের হোসেন বাবার সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। ১০ বছর বয়সী বড় মেয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী; এ জন্য মাদ্রাসায় থেকে লেখাপড়া করে। গ্রামের বাড়িতে শাশুড়ির সঙ্গে ছোট মেয়েকে নিয়ে থাকতেন ফারহানা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে তালিম (ধর্মীয় আলোচনা) দিতে বাড়ি থেকে বের হন ফারহানা আক্তারের শাশুড়ি কদরবানু। দুপুরে শাশুড়ি বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা–জানালা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে বাইরে থেকে অনেক ডাকাডাকি করেন। একপর্যায়ে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আশপাশের মানুষজন ডাকেন কদরবানু। পরে প্রতিবেশীরা এসে জানালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ঘরের একটি কক্ষে শিশু ফাছিহার এবং অন্য কক্ষে ফারহানার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে এদিন বিকেলে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল বলেন, ‘দরজা-জানালা খোলে না দেখে ফারহানা আক্তারের শাশুড়ির কথায় আমি তাদেরকে জোরে জোরে ডাকাডাকি করি। প্রায় ১০ মিনিট ডাকাডাকির পরও কেউ সাড়া দেয়নি। দরজা-জানালা বন্ধ ধাকায় একপর্যায়ে কয়েকজনের উপস্থিতিতে একটা জানালা খুলে ছোট মেয়ের লাশ দেখতে পাই। আরেক রুমে দেখি মায়ের লাশ ঝুলছে।’
এমন ঘটনায় গ্রামের সবাই হতবাক। অবস্থা দেখে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ধারণা করছেন, শিশুমেয়েকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে পরে মা–ও আত্মহত্যা করেছেন। সন্ধ্যায় চান্দিনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, একই ঘরের দুই কক্ষে ঝুলছিল মা ও মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ। তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।