সঠিক পরিচর্যায় ২০ দিনের মাথায় শুরু হয় ফলন। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ কেজি মাশরুম পাচ্ছেন। ‘মিল্কি হোয়াইট’ জাতের মাশরুম চাষ করেছেন তিনি। খড় দিয়ে তৈরি মাশরুম জন্মানোর একেকটি স্পঞ্জে (পাত্র) দেড় থেকে দুই কেজি মাশরুম উৎপাদিত হয়। বর্তমানে তাঁর বাড়িতে দুটি ঘরে এক হাজার প্যাকেট রয়েছে। স্থানীয় বাজারসহ শহরের নানা এলাকায় তাঁর মাশরুম বিক্রি হয়। প্রতি কেজি মাশরুম ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। অনেক সময় অবিক্রীত মাশরুম রোদে শুকিয়ে রাখেন, পরে তা বেশি দামে তিনি বিক্রি করেন।

রিয়াদুল প্রথম আলোকে জানান, মাশরুম চাষে বাঁশের মাচা তৈরি, পলিথিনের প্যাকেটসহ নানা কাজে তাঁর প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই খরচের টাকা উঠে যায়। এখন তিনি পরিবারের নানা কাজের পাশাপাশি মাশরুম চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে গত এক বছরে তিনি প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মতো আয় করছেন। তাঁকে দেখে এখন এলাকার অনেক বেকার যুবক মাশরুম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চাষপদ্ধতি শিখতে তাঁর কাছে প্রতিদিনই যাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

সম্প্রতি রিয়াদুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সিদ্দিক মিয়া নামের এক ক্রেতা ২৮০ টাকা দরে তাঁর কাছ থেকে তিন কেজি মাশরুম কিনে নিচ্ছেন। ওই ক্রেতা জানান, শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় তাঁর ভাসমান বুট-বড়ার দোকান আছে। তিনি প্রতিদিন মাশরুম ভেজে ১০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি করেন। এতে তাঁর দুই থেকে তিন গুণ লাভ হয়। 

বুড়িঝুড়ি গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও তৌফিক তালুকদার বলেন, ‘রিয়াদুল মাশরুম চাষ করে অল্প দিনের মধ্যেই এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। তাঁকে দেখে আমরা মাশরুম চাষে আগ্রহী হচ্ছি। চাষ করব ভাব।’ 

নেত্রকোনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘মাশরুম একধরনের ছত্রাক। এর অধিকাংশই ব্যাসিডিওমাইকোটা এবং কিছু অ্যাসকোমাইকোটার অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্য উদ্ভিদের মতো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য তৈরির জন্য মাশরুমের সূর্য থেকে আলোর প্রয়োজন পড়ে না। খাবার হিসেবে মাশরুম অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এটি পুষ্টিসমৃদ্ধ ও সহজে হজম হয়। রিয়াদুলের মতো অনেক বেকার যুবক মাশরুম চাষ করে সহজে লাভবান হতে পারেন।’