ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি হাসপাতালেই
নুসরাত বেগমের মেয়ে নুসাইবা আক্তার (৯ মাস) জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অসুস্থ মেয়েকে গত বুধবার রাতে ভর্তি করেছেন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর (নুসরাত) মা, শাশুড়ি ও বোন। মেয়ে সুস্থ না হওয়ায় তিনি আছেন হাসপাতালে। আজ শনিবার ঈদের সকালও কেটেছে হাসপাতালেই।
নুসরাত বেগম বলেন, ‘স্বজনেরা কাছে নেই। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্য রোগীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছি। সকালে হাসপাতাল থেকে দেওয়া সেমাই, পাউরুটি, কলা ও ডিম খেয়েছি।’
নুসরাত বেগমের বাড়ি উপজেলার উপাদী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের কৃষক মো. সোহাগের স্ত্রী। নুসরাত বেগমের মতো আরও অনেক রোগী ও রোগীর স্বজনদের ঈদ কাটছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ঈদের আনন্দও ভাগাভাগি হচ্ছে এখানে।
আজ বেলা ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা যায়, মোট ৫০ জন রোগী ভর্তি আছেন। জ্বর, নিউমোনিয়া ও সর্দি-কাশিসহ আরও নানা রোগের রোগীরা আছেন। সঙ্গে রয়েছেন রোগীদের বেশ কিছু স্বজনও। তাঁদের ঈদ কাটছে এখানেই। রোগী ও রোগীদের স্বজনদের প্রত্যেককে আজ সকালে সেমাই, একটি করে পাউরুটি, ডিম ও কলা খেতে দেওয়া হয়েছে। দুপুরে দেওয়া হচ্ছে পোলাও, মুরগির রোস্ট, দধি, চায়নিজ সবজি ও সালাদ।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আছে দুই বছরের শিশু সারা আলম। তার মা সুবর্ণা আক্তার বলেন, তাঁর বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ নলুয়া গ্রামে। তাঁর ছেলে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত। আজ সকালে এখানে ভর্তি করিয়েছেন তাকে। সঙ্গে তাঁর মা আছেন। স্বামী মাহবুব আলম থাকেন ফ্রান্সে। ছেলের অসুস্থতার জন্য স্বজনদের নিয়ে বাড়িতে ঈদ করতে পারেননি। এখানেই আজ সকালে ঈদের সেমাই ও নাশতা খেয়েছেন। ভর্তি হওয়া অন্যান্য রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। তাঁদের আনন্দে যুক্ত হচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরাও। মোটামুটি ভালোই লাগছে এখানে।
প্রায় একই রকম প্রতিক্রিয়া জানান হাসপাতালে ভর্তি হওয়া খেরুদিয়া গ্রামের শিশু আবদুল্লাহর মা স্বপ্না বেগম ও মতলব উত্তরের নাউরী গ্রামের শিশু হোসাইনের মা নুরজাহান বেগম।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুজন নার্স ও জরুরি বিভাগের একজন কর্মচারী বলেন, আজ তাঁদের ঈদ কাটছে রোগীদের সেবা ও চিকিৎসা দিয়ে। রোগী ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তাঁরাও মিলেমিশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। খেয়েছেনও একসঙ্গে। বাড়িতে যেতে না পারায় স্বজনের অভাব পুষিয়ে নিচ্ছেন রোগী ও তাঁদের সঙ্গে আসা লোকজনের সঙ্গে ঈদের সময় কাটিয়েই।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রাজিব কিশোর বণিক বলেন, হাসপাতালে আজ ঈদের দিনে রোগী, রোগীদের স্বজন ও চিকিৎসক-নার্স সবাই মিলে একসঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন। এটা অন্য রকম আনন্দ। বলা যায়, হাসপাতালে সবাই মিলে ঈদ উদ্যাপনের সম্মিলিত প্রযোজনা। আনন্দের পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসাসেবাও চলছে ঠিকমতো।