নোয়াখালী–৬ আসনের হাতিয়ায় বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের বাসভবনে অভিযানের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে নৌবাহিনী। গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে ওই অভিযান চালায় নৌবাহিনী। ঘটনার পর নৌবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার বিএনপি নেতার বাড়ি গিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাত আনুমানিক আটটার দিকে হাতিয়ার দ্বীপ কলেজের পাশের বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাম্পের পেছনে জায়গা–জমির দখল নিয়ে বিবদমান দুটি পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এ সময় নৌবাহিনীর ক্যাম্পে থাকা সদস্যরা তাঁদের ক্যাম্পে হামলা হচ্ছে ভেবে দ্রুত সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ধাওয়া করেন। ধাওয়া খেয়ে ওই স্থান থেকে কিছু লোক পাশে বিএনপি নেতা মাহবুবের রহমান শামীমের বাসায় ঢুকে পড়েন। তখন ওই বাসায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক দলীয় নেতা–কর্মী ছিলেন। এরপর নৌবাহিনীর সদস্যরা সেখানে অভিযান চালান। পরে হাতিয়া নৌবাহিনী ক্যাম্পের ডেপুটি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আরাফাত বাড়ি গিয়ে শামীমের উপস্থিতিতে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আরাফাত এ সময় বিএনপি নেতা শামীমের উপস্থিতিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) রাত আটটার দিকে নৌবাহিনী ক্যাম্পের পেছনে জায়গা–জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিছু দুষ্কৃতকারী নিজেদের মধ্যে মারামারিতে লিপ্ত হয়। তখন নৌবাহিনীর সদস্যরা ধারণা করেন, নৌবাহিনীর ক্যাম্পে আক্রমণ হচ্ছে। তাৎক্ষণিক নৌবাহিনীর সদস্যরা ওই স্থানে ছুটে যান এবং দুষ্কৃতকারীদের ধরার জন্য ধাওয়া করেন। এই পরিস্থিতিতে নৌবাহিনীর কিছু সদস্য বিএনপির প্রার্থীর বাসায় দুষ্কৃতকারীদের ধরার লক্ষ্যে প্রবেশ করেন। এর ফলশ্রুতিতে একটি ভুল–বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এ জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী দুঃখ প্রকাশ করছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মাহবুবের রহমান শামীম প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিনি ঘটনার সময় বাড়ি ছিলেন না। তাঁরা (নৌবাহিনীর সদস্যরা) এসে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, ঘটনাটি ভুল–বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে।’