বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬
‘মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অর্জন, এই অর্জনকে অন্য কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে হবে না’
নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে এ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা। আজ সোমবার এতে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে আলোচনা করেন মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, গবেষকসহ অন্যরা।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আলোচনা ছাড়া এ আয়োজনে বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা।
খুলনা
দুপুরে বটিয়াঘাটা উপজেলার প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ মিলনায়তনে এ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন কুমার রায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশপ্রেমের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে তোমরা ঘ্রাণ ছড়াবে; তোমাদের মেধা দিয়ে দেশকে নতুন করে গড়ে তুলবে এবং মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করো।’
খুলনা বন্ধুসভার সভাপতি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বর্ণ কমল রায়ের সভাপতিত্বে ও খুলনা বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রহমাতুল্লাহর সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার রায়, শিক্ষক আফজাল হোসাইন, তনুজা কবিরাজ, তাপসী মন্ডল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ও খুলনা বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা যুথি।
মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২০ মিনিটের পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে নবম শ্রেণির মারজান, দ্বিতীয় অষ্টম শ্রেণির সুদীপ্ত সানা, তৃতীয় সপ্তম শ্রেণির ফারোয়া রহমান, চতুর্থ দশম শ্রেণির আব্দুর রহমান এবং পঞ্চম স্থান অধিকার করে অষ্টম শ্রেণির আতিফা আক্তার।
লালমনিরহাট
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে এ আয়োজনের শুরু হয়। এতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ এক সূত্রে গাঁথা এক অনন্য সম্মান ও স্বীকৃতি, যা এমনি এমনি আসেনি। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জন করতে হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকের মধ্যে লালন ও কাজের মাধ্যমে পালন করতে হবে।’
অলিম্পিয়াডে লালমনিরহাট শহরের ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেণির ৮১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী পাঁচ শিক্ষার্থীর হাতে মুক্তিযুদ্ধের বই তুলে দেন অতিথিরা। বিজয়ীরা হলেন লালমনিরহাট বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র মো. তানজিন আহমেদ (প্রথম) ও রাঈসা বিনতে রফিক (দ্বিতীয়), লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী উম্মে হাবীবা (তৃতীয়), আলফি জামান (চতুর্থ) ও মোহছেনা বেগম (পঞ্চম)।
লালমনিরহাট প্রথম আলো বন্ধু সভার সহসভাপতি ইফতেখারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুখসানা পারভীন ও লেখক সুপেন্দ্র নাথ দত্ত।
গাইবান্ধা
শহরের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে সকালে এ আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় মোট ১০১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরপর আলোচনা সভা শুরু হয়ে চলে বেলা ২টা পর্যন্ত। গাইবান্ধা বন্ধুসভার সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা, কলেজের অধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ কে এম হেদায়েতুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ জান্নাতুন ফেরদৌস, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হক, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক-লেখক জহুরুল কাইয়ুম প্রমুখ।
এরপর উত্তরপত্র মূল্যায়নের মাধ্যমে বিজয়ী পাঁচজনকে বই পুরস্কার দেওয়া হয়। শেষে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে শোনান বন্ধুসভার সদস্য এম এইচ অন্তর। মুক্তিযুদ্ধ গবেষক জহুরুল কাইয়ুম বলেন, ‘ইতিহাস নিয়ে যখন নানা বিভ্রান্তির চেষ্টা চলছে, তখন প্রথম আলোর এই উদ্যোগ আলোর পথ দেখাবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
হরিমোহন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে বেলা ১১টার দিকে সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির ১২০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২০ মিনিটের এ প্রতিযোগিতা শেষে আলোচনা সভা হয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পাঁচজনকে প্রথমা প্রকাশনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই উপহার দেওয়া হয়। বিজয়ীরা হলো নবম শ্রেণির আতিকুর জামান, আহনাফ শাহরিয়ার ও আরাফ মোর্শেদ ও অষ্টম শ্রেণির মাহমুদুল হাসান ও উমায়ের উসাইদ।
আলোচনা সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হয়তো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, কিন্তু একদিন তোমাদের হাত ধরেই এসব চেতনার বাস্তবায়ন হবে—এই বিশ্বাস আমাদের আছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি মাশরফা খাতুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হরিমোহন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রুবিনা আনিস। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফল হক, বাংলাদেশ স্কাউটস চাঁপাইনবাবগঞ্জের সহকারী কমিশনার আশরাফুল আম্বিয়া, শিক্ষক সৈয়দ মফিজুল ইসলাম ও মাহবুব জন প্রমুখ।
নওগাঁ
সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নওগাঁর বোয়ালিয়া উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে এ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করেন জেলার বন্ধুসভার সদস্যরা। নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে মার্চ মাসজুড়ে প্রথম আলো বন্ধুসভার দেশব্যাপী এ আয়োজন করছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অর্জন। এই অর্জনকে অন্য কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে হবে না। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই বেশি করে পড়তে হবে।
আলোচনা শেষে উপস্থিত ১৪৫ শিক্ষার্থী মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে অংশ নেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষে বন্ধুসভার সদস্যদের সহযোগিতায় আমন্ত্রিত অতিথিরা ফলাফল ঘোষণা করেন এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ফলাফলে সর্বোচ্চ ১৬ নম্বর পেয়ে প্রথম হন রসনী আক্তার। দ্বিতীয় হয়েছে তাফসী আক্তার, তৃতীয় হয়েছে তাসকিয়া আক্তার, চতুর্থ হয়েছে মরিয়ম আক্তার রিয়া ও পঞ্চম হয়েছে মো. রাহিম।
জয়পুরহাট
দুপুরে জয়পুরহাট শহরের কালেক্টরেট বালিকা বিদ্যানিকেতনের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা আফতাব হোসেন, কালেক্টরেট বালিকা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক মাহবুব-উল-আলম, জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক। মুক্তিযোদ্ধা আফতাব হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে অনেক সহযোদ্ধাকে চোখের সামনে হারিয়েছি, তবুও পিছু হটিনি। কারণ, আমরা জানতাম, এই ত্যাগই একদিন স্বাধীনতার সূর্য এনে দেবে। এই দেশ অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত।’
কুইজ প্রতিযোগিতায় সদর থানা উচ্চবিদ্যালয় ও কালেক্টরেট বিদ্যানিকেতনের প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়। এর মধ্যে প্রথম হয়েছে কালেক্টরেট বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থী জেসিন তাবাসুম, দ্বিতীয় সদর থানা উচ্চবিদ্যালয়ের লক্ষ্মী রানী সাহা, তৃতীয় কালেক্টরেট বিদ্যানিকেতনের ইয়াকুন জান্নাত, চতুর্থ একই বিদ্যালয়ের ফাতেমা ও পঞ্চম সদর থানা উচ্চবিদ্যালয়ের মালিহা নওরিন। অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের বই তুলে দেন।
নরসিংদী
দুপুরে শহরের নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস অডিটোরিয়ামে এর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। আলোচনা সভা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপস্থিত অতিথিরা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নরসিংদী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, ‘একাত্তরে যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন আমরা দায়িত্ব পালন করছি। ভবিষ্যতের দায়িত্ব তোমাদের, দেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে হবে তোমাদের।’
অলিম্পিয়াডে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৪ জন শিক্ষার্থী কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তাদের মধ্য থেকে পাঁচজন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তারা হলো নরসিংদী বিয়াম জিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইরাত নূর (প্রথম), আহনাফ হক (দ্বিতীয়), নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদমান সানি (তৃতীয়), খন্দকার সিয়াম হোসেন (চতুর্থ) ও সাটিরপাড়া কালী কুমার ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিদ হাসান (পঞ্চম)।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রায়হানা সরকার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের জেলা সংগঠক আনিসুর রহমান ভূইয়া, নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রধান শিক্ষক ইমন হোসেন। নরসিংদী বন্ধুসভার সভাপতি মাইনুল রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সদস্য সাহিদা তাশফি।
জামালপুর
সকালে জামালপুর জিলা স্কুলে আয়োজিত হয় ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’-এর অনুষ্ঠান। এতে জামালপুর জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, আশেক মাহমুদ কলেজ ও জাহেদা শফির মহিলা কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরে তাঁদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
নির্ধারিত ২০ মিনিটের এ পরীক্ষা শেষে পাঁচজন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার জালাল উদ্দিন, জামালপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) এফ এম ইমামুর রশীদ ও সহকারী শিক্ষক মিনহাজুল আবেদীন। কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের উম্মে নাছির বুশরা, দ্বিতীয় আশেক মাহমুদ কলেজের তাহমিনা ইসলাম, তৃতীয় জাহেদা শফির মহিলা কলেজের আশা, চতুর্থ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সাবিয়া ও পঞ্চম জামালপুর জিলা স্কুলের আহম্মদ আল মোস্তাইন।
এ আয়োজনের আলোচনা সভায় স্মৃতিচারণা করে মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার জালাল উদ্দিন বলেন, ‘এই দেশ আওয়ামী লীগেরও না আবার বিএনপিরও না। আমি মনে করি, রাজনীতি ও হানাহানিকে ঊর্ধ্বে রেখে এই দেশের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রবহমান রাখতে হবে।’
নোয়াখালী
আজ সকালে শহরের হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের মরহুম ছিদ্দিকুর রহমান মিলনায়তনে এ আয়োজনের পাশাপাশি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্মৃতিচারণা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধে গেছি, তখন কিছু পাওয়ার আশায় যুদ্ধে যাইনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল একটাই, এই দেশকে পশ্চিম পাকিস্তানের দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল, নোয়াখালী নারী অধিকার জোটের সাবেক সভাপতি লায়লা পারভীন, বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি সুমন নুর।
অলিম্পিয়াডে হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় ছাড়াও নোয়াখালী জিলা স্কুল, নোয়াখালী সরকারি কলেজের প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে নোয়াখালী জিলা স্কুলের ছালেহ আহমেদ প্রথম, হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের আবিদা আমরিন দ্বিতীয়, রাইসা ইসলাম তৃতীয় ও আশরাফুল করিম চৌধুরী পঞ্চম পুরস্কার লাভ করে। এ ছাড়া চতুর্থ পুরস্কার লাভ করেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের ছাত্রী আনিকা আমিন।
ফেনী
আজ দুপুরে ফেনী সরকারি কলেজের বাণিজ্য ভবনের দ্বিতীয় তলার এক শ্রেণিকক্ষে এর আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও বর্তমান সদস্যসচিব আবদুল মোতালেব। তিনি বলেন, ‘৫৫ বছর আগে সশস্ত্র সংগ্রামের যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেছিলাম। কিন্তু এখন নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করে দেখার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছি, এ অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।’
ফেনী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা মোশারফ হোসেন মিলনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথম আলোর সাবেক প্রতিনিধি আবু তাহের, দৈনিক ফেনীর সম্পাদক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক আরিফুল আমিন রিজভী।
মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে ৩০টি প্রশ্নের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন ফেনী সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মেহানী তৃষা। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন যথাক্রমে ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনজানা আনজুম চৌধুরী, ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ওমর ফারুক, ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাকিব মাহমুদ ও সুদীপ্ত দাস অরিত্র।
কুমিল্লা
দুপুরে নগরের বাগিচাগাঁও এলাকায় কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজে ১৫০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই অলিম্পিয়াড। শেষে ছিল আলোচনা সভা। এতে উপস্থিত হয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ইন্দুভূষণ ভৌমিক বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। আমরা চাই না নতুন প্রজন্ম বিকৃত বা নতুন করে বানানো কোনো ইতিহাস জানুক। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস অবিকৃতভাবে সংরক্ষণ করে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।’
কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাছাই শেষে ৫ জনকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে নুসরাত জাহান, দ্বিতীয় কোহিনুর আক্তার, তৃতীয় জোবায়ের আলম, চতুর্থ সন্দীপ রায় বসু এবং পঞ্চম রিয়ান ইসলাম। তারা সবাই কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. আলী হোসেন চৌধুরী ও আবু আয়ুব হামিদ, ভাষাসৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়েল অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম, ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর, কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর কুমিল্লা প্রতিনিধি আবদুর রহমান।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়
দুপুরে শাহজালাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড স্কুল কলেজে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’-এর আয়োজন করে শাবিপ্রবি বন্ধুসভা। এতে কলেজটির অধ্যক্ষ দিগ্বিজয় চক্রবর্তী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। এই ইতিহাসকে সমুন্নত রাখতে তোমাদেরই ভবিষ্যতে ভূমিকা রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও তোমাদের দ্বারাই সমুজ্জ্বল হবে।’
অনুষ্ঠানে শাবিপ্রবি বন্ধুসভার সভাপতি সাবিনা আক্তারের সভাপতিত্ব এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন ও সাংস্কৃতি সম্পাদক জনি জান্নাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন কলেজের সহকারী শিক্ষক মাছুম আহমেদ, সহকারী শিক্ষক আরাধান তালুকদার ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সাগর মিয়া।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতায় শাহজালাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির ১০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। আলোচনা শেষে বিজয়ীদের হাতে শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এতে স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী মুসতাহিদা রহমান প্রথম, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস দ্বিতীয়, একই শ্রেণির ছাত্র তাহসিন আরিফ তোহা তৃতীয়, দশম শ্রেণির ছাত্র শুভ্রত চৌধুরী চতুর্থ ও দশম শ্রেণির ছাত্রী দীপ লক্ষ্মী দীপ্তি পঞ্চম স্থান অর্জন করে।
শেরপুর
বিকেলে শেরপুর বন্ধুসভার উদ্যোগে শহরের নবারুণ পাবলিক স্কুলে অনুষ্ঠিত অলিম্পিয়াডে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.শহিদুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে শহিদুর রহমান বলেন, ‘লাখো মানুষের আত্মত্যাগ, অত্যাচার, বঞ্চনা শেষে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ দেশ পেয়েছি; অধিকার আদায় করতে পেরেছি। পতাকা ও মানচিত্র পেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের আবেগ এবং অস্তিত্বের নাম। এর সঠিক ইতিহাস আগামী প্রজন্মকে জানাতে হবে এবং এই ইতিহাসকে সমুন্নত রাখতে আগামী প্রজন্মকে সজাগ থাকতে হবে। এ চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শেরপুর জনউদ্যোগের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, শেরপুর নবারুণ পাবলিক স্কুলের অধ্যক্ষ খন্দকার আনোয়ার হাবিব, উপাধ্যক্ষ সাদিকুজ্জামান, জনউদ্যোগের সদস্যসচিব হাকিম বাবুল, প্রথম আলোর শেরপুর প্রতিনিধি আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সভাপতি মাশুকুর রহমান।
এর আগে নবারুণ পাবলিক স্কুলের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১০ম শ্রেণির ১৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে পাঁচজন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা। বিজয়ীরা হলো নবারুণ পাবলিক স্কুলের আবু কাওসার, মাজাহারুল ইসলাম, শফিক মিয়া, ঋদ্ধিমান কর ও জান্নাতুল ফেরদৌস।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অভ্যন্তরে অবস্থিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেবি) কলেজের শ্রেণিকক্ষে এ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানসহ নানা বিষয়ে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মেধা যাচাই করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিযোগী এতে অংশ নেন।
অলিম্পিয়াড শেষে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত পাঁচজনকে পুরস্কৃত করা হয়। বাকৃবি বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক তাসনিম সিদ্দিকার সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. শহীদুল হক, কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ছাদেকা হক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্তেন্দ্রচন্দ্র দাস। এ সময় পাঁচজন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন বাকৃবি বন্ধুসভার সভাপতি মো. লিখন ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্তেন্দ্রচন্দ্র দাস মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল একটি জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের সংগ্রাম।’ তরুণ প্রজন্মকে তিনি ইতিহাস জানার এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সেই সময়ের ত্যাগ ও সাহসিকতার গল্প নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
অধ্যাপক ছাদেকা হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমার অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। আমার নিজের গ্রামে ১১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং আমার পরিবারে মোট ৪ জন বীর উত্তম এবং বীর বিক্রম আছেন। তাঁদের কঠোর সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে হবে। দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ—এ কথা মনে রাখতে হবে। দেশের যেকোনো সংকটে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের সম্পদের সঠিক ব্যবহার করতে হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশকে বসবাসযোগ্য করে রেখে যেতে হবে।’
ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. শহীদুল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার, যার কারণে আমরা আজ স্বাধীন। বাঙালি জাতিকে দমিয়ে রাখার জন্য তাদের ওপর নানা জুলুম ও নির্যাতন করা হয়। এরপরও বাংলার দামাল ছেলেদের দমিয়ে রাখতে পারেনি পাকিস্তানি বাহিনী।’
সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা নবারুণ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুইজে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নবারুণ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মালেক গাজী ও জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক মোছা. নাজমুন লাইলী। স্বাগত বক্তব্য দেন সাতক্ষীরার প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি।
সুভাষ সরকার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ইতিহাস নয়, আমাদের জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ ও মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে কোনোভাবেই অবহেলা বা অসম্মান করা যাবে না। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং সেই চেতনা ধারণ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রথম আলো বন্ধুসভা সাতক্ষীরার সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় কুমার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সাতক্ষীরার উপদেষ্টা জাহিদা জাহান। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কবিতা আবৃত্তি করে দশম শ্রেণির ছাত্রী নওরিন উলফাত অনন্যা। তাকে প্রথম আলো বন্ধুসভার পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই উপহার দেওয়া হয়।
কুইজ প্রতিযোগিতা নবম শ্রেণির পূজা ঘোষ প্রথম, ১০ শ্রেণির উম্মে হাফসা দ্বিতীয় ও একই শ্রেণির জান্নাতুল ফেরদাউস তৃতীয় স্থান অধিকার করে। শেষে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ জন শিক্ষার্থীর হাতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বন্ধুসভার সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সাভার
উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়নের গেরুয়া এলাকায় দুপুর ১২টায় গেরুয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে সাভার প্রথম আলো বন্ধুসভা আয়োজন করে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত ২০ মিনিটের এ প্রতিযোগিতা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষা শেষে গেরুয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফা সুলতানা তুলি, তামান্না তাজিন, তাহমিনা আক্তার স্নেহা, আলেয়া আক্তার রিতা, তাসলিমা আক্তার এবং মঞ্জুরুল ইসলাম হাসান উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন।
ফলাফল ঘোষণার আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কবি আ খ ম সিরাজুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালেই আমার জীবনটা যেতে পারত। আমি যখন মুন্সিগঞ্জের তালতলায় পাকিস্তানিদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হই, তখন আমার ডান পাশে থাকা ঢাকার ছেলে ডেমোলিশন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আলাউদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিটা তার বক্ষ ভেদ করেছিল। আমরা সেদিন পণ করেছিলাম, শহীদ আলাউদ্দিনের লাশ আমরা শত্রুর হাতে দেব না। সেখানে হাঁটুপানির ওপরে কচুরিপানা ছিল, তার মধ্যে দাঁড়িয়ে টার্গেট লক্ষ করে গুলি ছুড়তে লাগলাম। আমার বাকি বন্ধুরা আলাউদ্দিনের লাশ নৌকায় তুলে আস্তে আস্তে নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একটা সময়ে আমি তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। আমি একা হয়ে যাই। ছুড়তে ছুড়তে একসময় আমার গুলি শেষ হয়ে যায়। তখন হাতে শুধু একটা এসএলআর, তাঁর মাথায় একটা বেয়নেট আছে। আমি সেই এসএলআর এবং বেয়নেট নিয়ে কচুরিপানা সরিয়ে অনেক দূরে দেখলাম একটা কুপি জ্বলে। সেই কুপিবাতির দিকে অগ্রসর হলাম। বহু কষ্টে পরে একটা হিন্দুবাড়িতে গিয়ে উঠেছিলাম। একাত্তরের যুদ্ধটা ছিল এই রকম। কী অবর্ণনীয় কষ্ট আমাদের সহ্য করতে হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাভার বন্ধুসভার উপদেষ্টা মোস্তাফিজ আহমেদ, গেরুয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. ফরহাদ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন সাভার বন্ধুসভার সহসভাপতি দিবাকর বিন্তে আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ম ঘোষ, অর্থবিষয়ক সম্পাদক অনক রায়, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ইমরান, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মো. তানজিল আহম্মেদ, প্রথম আলোর সাভারের নিজস্ব প্রতিবেদক ও সাভার বন্ধুসভার উপদেষ্টা শামসুজ্জামান, সাভার বন্ধুসভার সভাপতি জয়নুল আবেদীন জয়। সঞ্চালনা করেন সাভার বন্ধুসভার দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক মো. আশফাক আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো সাভার বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক তানজিল তাবাসসুম আস্থা।
আলোচনা সভা শেষে অলিম্পিয়াডে বিজয়ীদের মধ্যে বই তুলে দেন অতিথিরা। উত্তরপত্র মূল্যায়নের ভিত্তিতে পাঁচজন বিজয়ীর মধ্যে প্রথম হয়েছেন ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আয়শা খাতুন সানিহা, দ্বিতীয় হয়েছেন সাভার ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মুহাম্মদ জাকারিয়া, তৃতীয় গেরুয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আহনাফ হাবীব, চতুর্থ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ঐশী ও পঞ্চম হয়েছেন গেরুয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আরজিনা আক্তার।
পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
পাবনা আইডিয়াল ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনা বন্ধুসভার সভাপতি রাশেদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি অভিজিৎ ঘোষ ও পাবনা আইডিয়াল স্কুলের পরিচালক জহিরুল ইসলাম প্রমুখ। রাশেদুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। অভিজিৎ ঘোষ এ আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন ও পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বন্ধুসভার সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।
পাবনা আইডিয়াল ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক জহিরুল ইসলাম তাঁর প্রতিষ্ঠানে এ আয়োজন করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন ও সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বন্ধুসভার সভাপতি অনিক কর্মকার সব অতিথি, অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি
সোমবার ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আশুলিয়া ক্যাম্পাসে আয়োজিত অলিম্পিয়াডে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ন বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও আইন বিভাগের চেয়ারপারসন মো. মামুনুর রশীদ, আইন বিভাগের শিক্ষক ওমর ফারুক তামিম, সভাপতি খন্দকার ওয়াশিমূল কবির, সহসভাপতি তানভীর ফাহিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত সরকার, অর্থ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ওমর ফারুক তামিম বলেন, যেই জাতি তার প্রকৃত ইতিহাস জানে না, তারা সামনে এগোতে পারে না। তিনি তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস চর্চা করার উপদেশ দেন। আয়োজনের সমাপনী বক্তব্য দেন উপদেষ্টা মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ আমাদের শিখিয়েছে একতা কী। সেই একতার শক্তি নিয়ে আমাদের একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যেতে হবে।’ পরে তিনি আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।