‘বিদ্রোহী প্রার্থীর’ কর্মী হত্যায় ধানের শীষের প্রার্থীর সম্পর্ক নেই: ধোবাউড়া বিএনপি

ময়মনসিংহ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীকে হত্যার প্রতিবাদে হালুয়াঘাটে শোক র‍্যালি করা হয়। আজ রোববার বিকেলে হালুয়াঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপি। আজ বিকেল পাঁচটায় স্থানীয় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জি এম আজহারুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে আজহারুল ইসলাম দাবি করেন, ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘোষগাঁও ইউনিয়নে এরশাদ বাজার এলাকায় যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, এ বিষয়ে তাঁরা গভীরভাবে শোকাহত। এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ (প্রিন্স), বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যে কুৎসা, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থী বা বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতা–কর্মীর সামান্যতম সম্পৃক্ততাও নেই। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই সত্য হিসেবে প্রমাণিত হবে।’

বিএনপির নেতা আজহারুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনাকে ‘নির্বাচনী সহিংসতা’ আখ্যা দিয়ে ধানের শীষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক, ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মানহানি এবং একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রতিপক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা সরাসরি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।

সংবাদ সম্মেলন থেকে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলা হয়, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহসহ বিএনপির সব নেতা-কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র ও সহিংস উসকানির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ইতিমধ্যে মামলায় তালিকাভুক্ত হওয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, যুগ্ম আহ্বায়কদের নামসহ নিরপরাধ ব্যক্তিদের নাম অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

আরও পড়ুন

এ সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন, আবদুল কদ্দুস, মাহবুবুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহ-১ আসনে দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর। এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ।

১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমরের নির্বাচনী কার্যালয়ের উদ্বোধন নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে তাঁর কর্মী নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। তাঁর বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের বাকপাড়া রামসিংহপুর গ্রামে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছেলে মো. সোলাইমান বাদী হয়ে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এ মামলায় স্থানীয় বিএনপির তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ বিকেল হালুয়াঘাটে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া উপজেলাবাসীর ব্যানারে এ কর্মসূচি করা হয়। হালুয়াঘাট নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে উপজেলা পরিষদ এলাকা পর্যন্ত সড়কে এ কর্মসূচি ‍শুরু করা হয়। মানববন্ধন শেষে একটি শোকমিছিল করে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর বলেন, যত দিন পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা না হবে, তত দিন পর্যন্ত প্রতিবাদ কর্মসূচি চলমান থাকবে।

ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার

বিদ্রোহী প্রার্থীর এক সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ সুপার এলাকায় গিয়ে ঘটনার সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী, নিহত ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় হত্যার বিচার দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করবে এবং তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসবে। এ ব্যাপারে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না, আমরা সে প্রক্রিয়ায় আছি। তদন্ত চলছে, ইনশা–আল্লাহ এ ঘটনা দৃষ্টান্ত হবে এবং এরূপ ঘটনা যেন না ঘটে, সে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের কাজ চলছে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ‍পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘আমরা মনে করছি না, এ ঘটনা নির্বাচনে প্রভাব পড়বে। একটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, পুলিশ যেসব আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেটা নিয়েছে। কিছু চিহ্নিত আসামি, যারা তদন্তে চিহ্নিত হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করছি, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।’

আরও পড়ুন