ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ২০, হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা সেবা চালু
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের দামচাইল থেকে হাংমাড়া মসজিদসহ আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।
স্থানীয় লোকজন, হাসপাতাল ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা জানান, বিকেল থেকে কুকুরটি খোলাপাড়া, রাজা খাঁ, দামচাইল, সাদেকপুর ও হাংমাড়া মসজিদ এলাকায় ঘুরে ঘুরে লোকজনকে কামড়াতে থাকে। একপর্যায়ে হাংমাড়া মসজিদের সামনে কুকুরটিকে ঘেরাও করে পিটিয়ে মারা হয়। এরপর আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালসহ স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ১৩ জন। বাকিরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার খবর পেয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সোমবার রাতে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা (ওআরটিসি) সেবা চালু করা হয়। সেখানে আহত ২০ জনকে র্যাবিক্স-ভিসি ও র্যাবিক্স-আইজি টিকা দেওয়া হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে এলে তাঁদেরও প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সাদেকপুরের ঘটনার পর রাতে বিভাগটি খোলা হয় এবং সেখানে ২০ জনকে টিকা দেওয়া হয় বলে জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ওআরটিসি বিভাগের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স ফেরদৌসী বেগম। তিনি পরামর্শ দেন, কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে।
কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন রফিক নামের এক ব্যক্তি। তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁর ভাই অলিউল্লাহ বলেন, কুকুরটি খোলাপাড়া থেকে দামচাইলের দিকে আসে। পথে কয়েকজনকে কামড়ে সাদেকপুরের দিকে যায়। তাঁর ভাগনে আলামিনকেও কুকুরটি কামড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি কামরুল হাসান জানান, সাদেকপুর থেকে একজন তাঁকে ফোন করে ২০ জনকে কুকুর কামড়ানোর খবর দেন। এরপর তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত জলাতঙ্কের টিকার ব্যবস্থা করেন।
ঘটনার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে ওআরটিসি বিভাগ খোলা হয়েছে এবং আহত রোগীদের টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী। তিনি বলেন, হাসপাতালে টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। কুকুরে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।