আজ সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, সমাবেশস্থলে নিজেদের মতো করে মানুষজন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গল্পগুজব করছেন। ঠান্ডায় জড়সড় হয়ে অনেকে কম্বল গায়ে জড়িয়ে মাঠে বসে ছিলেন। কেউ কেউ জটলা বেঁধে কাঠে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণ হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। মাঠ ও আশপাশে থাকা ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকানিদের কাছ থেকে কেউ কেউ চা কিনে পান করছিলেন। কেউ কেউ আবার মঞ্চের সামনে আগেভাগে জায়গা দখল করে রেখেছেন। ভোরের আলো ফুটতেই মানুষজনও ধীরে ধীরে আসতে শুরু করেছেন সমাবেশস্থলে।

মঞ্চের ঠিক সামনেই কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বসার জন্য বাঁশের বেষ্টনী দিয়ে বলয় তৈরি করা হয়েছে। এর পর থেকে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের জন্য জায়গা রাখা। ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে বাঁশের বেষ্টনীর ঠিক সামনে আগেভাগে জায়গা দখল করে বসেছেন শাহাব উদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি গ্রামে। তিনি বিএনপির কট্টর সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন।

শাহাব উদ্দিন বলেন, গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি বিছনাকান্দি থেকে সিলেটে পৌঁছেছেন। সরকার পতন আন্দোলনে তাঁর সমর্থন আছে, এটা বোঝাতেই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিরাট কষ্টের মধ্যে আছি। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছেই। ব্যবসা-বাণিজ্যও নেই। উপার্জন কমে গেছে। দিন খুব কষ্টে চলে।’

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম (৪৭) আজ ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে সমাবেশস্থলের এক কোনায় অনেকের সঙ্গে আগুন পোহাচ্ছিলেন। তিনি উপজেলার রাতগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। সিরাজুল বলেন, গতকাল রাত নয়টার দিকে ৪৫ নেতা-কর্মীসহ তিনি সমাবেশস্থলে এসেছেন। রাত এখানেই কাটিয়েছেন। সমাবেশ শেষে আজ বাড়ি ফিরবেন।

ভোর সোয়া পাঁচটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকের অন্তত ২২ জনের সঙ্গে সমাবেশস্থলে কথা হয়েছে। তাঁরা অভিন্ন কণ্ঠে বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। মানুষ ভোটাধিকারও হারিয়ে ফেলেছেন। দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে। স্বাধীনভাবে মানুষজন মুখ ফোটে সত্য কথা বলতে পারেন না। এসব কারণে বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি অনেক সাধারণ মানুষও এখন বিএনপির গণসমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। সিলেটেও একই ধারাবাহিকতার বিষয়টি দেখা যাবে।

এদিকে সকাল ছয়টা থেকে সমাবেশস্থলের আশপাশের এলাকাসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়োজিত থাকতে দেখা গেছে। নগরের চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, লামাবাজার, পুলিশ লাইনস, দরগাগেট ও মদিনা মার্কেট এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

সিলেট মহানগরের পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, আজ সিলেট মহানগরের ছয় থানায় ১৯টি তল্লাশিচৌকি নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা আছে। পুলিশের টহল দল সার্বক্ষণিক মহানগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। যেকোনো ধরনের নাশকতা, অপতৎপরতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক আছে।