তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিংকি সাহা বলেন, এলজিইডির সড়ক উন্নয়নের জন্য নিয়ম মেনেই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। নিলামের আহ্বান করলে চারজন অংশ নেন। সর্বোচ্চ দরদাতাকেই গাছগুলো অপসারণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো প্রকার অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি এখানে হয়নি। সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে।

উপজেলার চরদৌলতখান ইউনিয়নের শিকদারের মার্কেট থেকে চরফতেবাহাদুর উচ্চবিদ্যালয় এলাকা পর্যন্ত সড়কটি সম্প্রসারণের কাজ করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ সড়কের দুই পাশে থাকা ১০০টি মেহগনি, ২টি রেইনট্রি, ২টি চাম্বুল, ২টি শিশুসহ অন্য ১২টি গাছসহ মোট ১১৮টি গাছ বিক্রির জন্য গত ১৩ জুলাই সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় থেকে নিলামের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। ২৪ জুলাই নিলামে অংশে নেওয়া গাছগুলো অপসারণের দায়িত্ব পান মাতুল মাতুব্বর নামের এক ব্যবসায়ী। মেহগনি, রেইনট্রি, চাম্বুল, শিশুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকা।

ওই নিলামের জন্য কালকিনির ইউএনও পিংকি সাহাকে সভাপতি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইমরান খানকে সদস্যসচিব এবং উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম ও উপজেলা বন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খানকে সদস্য করা হয়। প্রথমে বন কর্মকর্তা গাছগুলোর মূল্য নির্ধারণ করেন। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী অধিকতর তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে মূল্য নির্ধারণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চরফতেবাহাদুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক হেমায়েত শিকদার বলেন, বড় বড় একেকটি মেহগনিগাছের দাম ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। গাছগুলোর বয়স ৩০-৪০ বছর। একেকটি গাছের দাম ৩০-৫০ হাজার টাকা। গাছের দাম কম দেখিয়ে অনেকে লাভবান হচ্ছেন।

সিডিখান এলাকার বাসিন্দা আবুল বাসার বলেন, ‘এই সড়কে সরকারিভাবে ১১৮টি গাছ বিক্রির নিলাম হয়েছে। কিন্তু দুই শতাধিক গাছ বিক্রির জন্য নম্বর লিখে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমাদের লাগানো গাছও রয়েছে। তাল, জারুলগাছও কেটে নিয়ে যাচ্ছে।’

নিলামে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী মাতুল মাতুব্বর বলেন, এটা ঠিক যে কাগজপত্রে তাঁর নাম আছে। কিন্তু সবকিছু করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেতা। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন