মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার ১৪ বছর ধরে দেশের জনগণের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো বসে আছে। এরা জনগণ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনগণের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্কই নেই। দেশে চাল, ডাল, চিনি, লবণের দাম বেড়ে গেছে। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। বিদ্যুতের দাম, গ্যাসের দামও বাড়ছে। এই যে থ্রি-হুইলার, অটোরিকশা, ট্রেন—সবকিছুর ভাড়া বেড়ে গেছে।

আওয়ামী লীগের নেতাদের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যারা এখানে সরকারি দলের নেতা আছে, তারা তো নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। এরা শুধু ফুলতেছে তো ফুলতেছেই। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণের নামে নিয়ে বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। এটা একটা ছোট্ট ছবি। সারা দেশে এই চৌদ্দ বছরের যে ছবি, এটা অত্যন্ত করুণ, মর্মান্তিক। শুধু একটা কথা বললেই মামলা, পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কথা বলা যাবে না। প্রতিবাদ করা যাবে না। মিছিল করা যাবে না।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের চেয়ারপারসনের সাথে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। হাজি সেলিমের জামিন হয়, ক্যাসিনো সম্রাটের জামিন হয়, ১৭ বছর কারাদণ্ড হওয়ার পরও আওয়ামী লীগের বড় নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া অবাধে ঘুরে বেড়ায়। অথচ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জামিন হয় না।’  

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি। কাউকে আঘাত করছি না। কিন্তু আমাদের ওপর যদি আঘাত আসে, জনগণ তাদের শক্তি দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তা প্রতিরোধ করবে। ইতিহাসের পর্যালোচনা করে আওয়ামী লীগকে শিক্ষা নিতে হবে। আইয়ুব খান পাকিস্তান আমলে ১০ বছর শাসন করেছিল। অনেক বড় বড় ভবন করেছিল। এরপরও উত্তাল আন্দোলনের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে আইয়ুব খানের পতন হয়েছিল। আজকে আওয়ামী লীগ উন্নয়নের কথা বলে আন্দোলন দমাতে চেষ্টা করছে, সেটা তারা দমাতে পারবে না।’

পরবর্তী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেছি, সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা যদি জয়লাভ করতে পারি, তাহলে আমরা একটি জাতীয় সরকার গঠন করব। ওই সরকারে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সবার প্রতিনিধিত্ব থাকবে। যে ২৭টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা হবে।’

এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশিদ, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।